ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে গ্রেপ্তার প্রায় ১ হাজার
- আপডেট সময় : ১০:২৮:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 9
ফ্রান্সজুড়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রায় ১ হাজার আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং শিক্ষা খাতের নানা সমস্যা নিয়ে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবারও বিক্ষোভে নামে লাখো মানুষ।দিনভর বেশিরভাগ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাতের দিকে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার দিনের শান্তিপূর্ণ মিছিল শেষ হওয়ার পর কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। দেশটির মার্সেই শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। আরেক শহর বোর্দোতে একটি ভবনের কাঠের পাটাতন খুলে রাস্তা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে কয়েকজন বিক্ষোভকারী।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। কয়েকটি শহরে আরোপ করা হয় বিশেষ বিধিনিষেধ।
এদিকে রাজধানী প্যারিসে ইতালির ফটক থেকে ভাঁসেনের ফটক পর্যন্ত একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও মিছিলের শেষ পর্যায়ে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করেন এবং মুখোশ পরা কয়েকজন তরুণকে একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙতেও দেখা যায়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ নির্দেশ দেন, কেবল স্বীকৃত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত বিক্ষোভই অনুমোদন করা হবে। একই সঙ্গে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে। এরইমধ্যে শত শত মানুষকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বোর্দো শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। অন্যদিকে, লিয়ঁ শহরে স্থানীয় প্রশাসনের নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি এলাকায় জড়ো হওয়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেড ব্যবহার করে। সেখানে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি জানান, তাদের দলে প্রায় ১৫০ জন ছিলেন। বেশিরভাগই মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
































