আয় বাড়ে কার, ব্যয়ের বোঝা বহন করে কে?
- আপডেট সময় : ১২:৪৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 37
দেশের পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা যখন ন্যায্য বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন, তখন সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন করে ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের খবরের মধ্যেই ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একদিকে বেতন বৃদ্ধির স্বস্তি, অন্যদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ—এই বৈপরীত্য যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা!
প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে বেসরকারি চাকরিজীবী, পোশাকশ্রমিক কিংবা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কি কমে যায়? বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজি কিংবা গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে তো আয়ের শ্রেণিভেদে আলাদা মূল্য নির্ধারিত হয় না। অথচ আয়ের সুযোগ ও বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে রয়েছে বিস্তর বৈষম্য।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি শুধু একটি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি নয়। এর প্রভাব পড়ে রান্নাঘর থেকে শুরু করে পরিবহন, উৎপাদন ও ব্যবসায়। বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত এসে পড়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর। ফলে বেতন বাড়লেও মূল্যস্ফীতির কাছে সেই বাড়তি আয় অনেক সময় অর্থহীন হয়ে যায়।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন তাই শুধু মজুরি বৃদ্ধির দাবি নয়; এটি জীবনধারণের ন্যূনতম অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। যে শ্রমিকের ঘামে দেশের রপ্তানি আয় সমৃদ্ধ হয়, তাঁর নিজের সংসারে যদি খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার সংকট থাকে, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি অন্যায় নয়; বরং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয় বাড়ানো জরুরি। কিন্তু একই বাস্তবতা বেসরকারি চাকরিজীবী ও শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এক শ্রেণির মানুষের আয় বাড়বে, আর বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট হবে—এমন অর্থনৈতিক ভারসাম্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।
এখনই সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মজীবীদের আয়ের বৈষম্য কমানো, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখাই হওয়া উচিত অর্থনৈতিক নীতির প্রধান লক্ষ্য।
রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছায়। অন্যথায় বেতন বৃদ্ধির আনন্দ আর মূল্যবৃদ্ধির যন্ত্রণা পাশাপাশি চলবে—আর সাধারণ মানুষের জীবনে প্রতিদিনই নেমে আসবে নতুন কোনো খাঁড়ার ঘা।
লেখক: এসএম শামীম
সাংবাদিক ও রাষ্ট্রচিন্তক





























