ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্র্যাক ব্যাংকে রাজুর দাপট, প্রশ্নে ব্র্যান্ডিং!

এসএম শামীম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 105

মাত্র দুই-তিন বছর আগেও বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতেন রাজু। অথচ অল্প সময়ের ব্যবধানেই তিনি এখন কোহিনুর অ্যাডভার্টাইজিংয়ের মালিক এবং ব্র্যাক ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ডিং কাজের অন্যতম সুবিধাভোগী—এমন তথ্য ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোহিনুর অ্যাডভার্টাইজিং প্রতিষ্ঠার আগেই রাজু ইউনিভার্সেল এড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর কোহিনুর অ্যাডভার্টাইজিং প্রতিষ্ঠার পরও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্র্যান্ডিংয়ের উল্লেখযোগ্য কাজ তার প্রতিষ্ঠানের হাতে যেতে থাকে।

তালিকাভুক্ত পুরাতন স্বনামধন্যদের পেছনে ফেলে সামনে কোহিনুর!

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্র্যান্ডিং বিভাগে দীর্ঘদিনের একাধিক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত নতুন কোহিনুর অ্যাডভার্টাইজিং কীভাবে সর্বোচ্চ কাজ পাচ্ছে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্রের অভিযোগ, ব্যাংকের ব্র্যান্ডিং বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে রাজুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই সম্পর্কের সুযোগে কিছু কাজ বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দামে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

২০ হাজারের কাজ ৮০ হাজার!

সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোনো কোনো কাজের প্রকৃত ব্যয় যেখানে প্রায় ২০ হাজার টাকা, সেখানে ব্যাংকের কাছে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল করার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত অর্থের সুবিধা সংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের মধ্যে ভাগাভাগি হওয়ার ব্যবস্থাও ছিল।

আরো পড়ুন : ব্র্যাক ব্যাংকের ব্র্যান্ডিংয়ে অস্বাভাবিক ব্যয়, নেপথ্যে কারা?

যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—ব্যাংকের অর্থের এমন ব্যবহারের অনুমোদন দিলেন কারা? আর কাজের প্রকৃত মূল্য যাচাই না করেই কীভাবে বিল অনুমোদিত হলো?

রাজুর দ্রুত উত্থানের নেপথ্যে কে?

চাকরি থেকে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের মালিক—এরপর অল্প সময়েই একটি বড় ব্যাংকের ব্র্যান্ডিংয়ের উল্লেখযোগ্য কাজ পাওয়ার এই দ্রুত উত্থান কি কেবল ব্যবসায়িক দক্ষতার ফল, নাকি এর পেছনে রয়েছে ব্যাংকের ভেতরের কোনো প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা?

নিউজ এন্ড বিজনেসের অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ ও তথ্যগুলো যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তী পর্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা, কাজের অনুমোদন, বিলের অস্বাভাবিক পার্থক্য এবং কোহিনুর অ্যাডভার্টাইজিং কীভাবে ধারাবাহিকভাবে কাজ পেল—এসব বিষয়ে আরও তথ্য তুলে ধরা হবে।

চলবে…

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ব্র্যাক ব্যাংকে রাজুর দাপট, প্রশ্নে ব্র্যান্ডিং!

আপডেট সময় : ১০:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

মাত্র দুই-তিন বছর আগেও বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতেন রাজু। অথচ অল্প সময়ের ব্যবধানেই তিনি এখন কোহিনুর অ্যাডভার্টাইজিংয়ের মালিক এবং ব্র্যাক ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ডিং কাজের অন্যতম সুবিধাভোগী—এমন তথ্য ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোহিনুর অ্যাডভার্টাইজিং প্রতিষ্ঠার আগেই রাজু ইউনিভার্সেল এড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর কোহিনুর অ্যাডভার্টাইজিং প্রতিষ্ঠার পরও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্র্যান্ডিংয়ের উল্লেখযোগ্য কাজ তার প্রতিষ্ঠানের হাতে যেতে থাকে।

তালিকাভুক্ত পুরাতন স্বনামধন্যদের পেছনে ফেলে সামনে কোহিনুর!

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্র্যান্ডিং বিভাগে দীর্ঘদিনের একাধিক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত নতুন কোহিনুর অ্যাডভার্টাইজিং কীভাবে সর্বোচ্চ কাজ পাচ্ছে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্রের অভিযোগ, ব্যাংকের ব্র্যান্ডিং বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে রাজুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই সম্পর্কের সুযোগে কিছু কাজ বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দামে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

২০ হাজারের কাজ ৮০ হাজার!

সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোনো কোনো কাজের প্রকৃত ব্যয় যেখানে প্রায় ২০ হাজার টাকা, সেখানে ব্যাংকের কাছে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল করার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত অর্থের সুবিধা সংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের মধ্যে ভাগাভাগি হওয়ার ব্যবস্থাও ছিল।

আরো পড়ুন : ব্র্যাক ব্যাংকের ব্র্যান্ডিংয়ে অস্বাভাবিক ব্যয়, নেপথ্যে কারা?

যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—ব্যাংকের অর্থের এমন ব্যবহারের অনুমোদন দিলেন কারা? আর কাজের প্রকৃত মূল্য যাচাই না করেই কীভাবে বিল অনুমোদিত হলো?

রাজুর দ্রুত উত্থানের নেপথ্যে কে?

চাকরি থেকে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের মালিক—এরপর অল্প সময়েই একটি বড় ব্যাংকের ব্র্যান্ডিংয়ের উল্লেখযোগ্য কাজ পাওয়ার এই দ্রুত উত্থান কি কেবল ব্যবসায়িক দক্ষতার ফল, নাকি এর পেছনে রয়েছে ব্যাংকের ভেতরের কোনো প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা?

নিউজ এন্ড বিজনেসের অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ ও তথ্যগুলো যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তী পর্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা, কাজের অনুমোদন, বিলের অস্বাভাবিক পার্থক্য এবং কোহিনুর অ্যাডভার্টাইজিং কীভাবে ধারাবাহিকভাবে কাজ পেল—এসব বিষয়ে আরও তথ্য তুলে ধরা হবে।

চলবে…