ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন কংগ্রেস বিরোধীদের দখলে

নীল সুনামিতে কাত ট্রাম্প

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 9

নীল সুনামিই বটে। আর তাতে কুপোকাত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে ভরাডুবি হয়েছে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের। ঘাঁটিখ্যাত লাল রাজ্যগুলো থেকে রিপাবলিকানদের হটিয়ে পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে নীল রংধারী ডেমোক্রেটিক পার্টি।

ভোটের ফল অনুযায়ী, মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ডেমোক্রেটরা দখলে নিয়েছে ৫৪টি আর রিপাবলিকানদের হাতে আছে ৪৪টি। অন্যদিকে নিন্মকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্রেটদের হাতে এখন ২২৮টি এবং রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে ১৩৯টি।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ব্যালটে ছিলেন না। তাই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের দায় তার নয়। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো তার প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফল অনুযায়ী সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটল। আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগও বাড়বে দলটির।

ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও তৈরি হলো। নতুন আইন পাস, বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে এখন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনকে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ট্রাম্পের প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করা এবং প্রয়োজনে তাকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাবেন ডেমোক্র্যাটরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, এবার প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ নিলেন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীরা।

মার্কিন রাজনীতি ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে কঠোর রায় দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মার্কিন কংগ্রেস বিরোধীদের দখলে

নীল সুনামিতে কাত ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

নীল সুনামিই বটে। আর তাতে কুপোকাত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে ভরাডুবি হয়েছে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের। ঘাঁটিখ্যাত লাল রাজ্যগুলো থেকে রিপাবলিকানদের হটিয়ে পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে নীল রংধারী ডেমোক্রেটিক পার্টি।

ভোটের ফল অনুযায়ী, মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ডেমোক্রেটরা দখলে নিয়েছে ৫৪টি আর রিপাবলিকানদের হাতে আছে ৪৪টি। অন্যদিকে নিন্মকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্রেটদের হাতে এখন ২২৮টি এবং রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে ১৩৯টি।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ব্যালটে ছিলেন না। তাই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের দায় তার নয়। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো তার প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফল অনুযায়ী সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটল। আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগও বাড়বে দলটির।

ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও তৈরি হলো। নতুন আইন পাস, বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে এখন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনকে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ট্রাম্পের প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করা এবং প্রয়োজনে তাকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাবেন ডেমোক্র্যাটরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, এবার প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ নিলেন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীরা।

মার্কিন রাজনীতি ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে কঠোর রায় দিয়েছেন।