যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ, ভাগ্যপরীক্ষায় ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ১০:৪২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 19
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের শত শত সদস্য নির্বাচিত করবেন ভোটাররা।
নির্বাচনি প্রচারে হস্তক্ষেপের হুমকি ও দলীয় কোন্দল নিয়ে ইতোমধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এবারের নির্বাচনের ফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলের ওপর গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কংগ্রেসে কোন দল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে, তার ওপর নির্ভর করছে ট্রাম্প তার মেয়াদের শেষ দুই বছরে কতটা ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এ নির্বাচনের ফল ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন ভোটাররা। কংগ্রেসের দুটি কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট।
প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩৬টিতে চার বছরের মেয়াদে নতুন গভর্নর নির্বাচন করবেন ভোটাররা।
বর্তমানে রিপাবলিকান পার্টি, যা গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি (জিওপি) নামেও পরিচিত, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। ফলে এবারের নির্বাচনে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের একটি প্রচলিত প্রবণতা হলো, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত এ নির্বাচনে আসন হারায়। অন্যদিকে বিরোধী দল আসন বাড়ানোর সুযোগ পায়। সে হিসাবে ডেমোক্র্যাটদের সামনে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। কংগ্রেসে পাস হওয়া কেন্দ্রীয় আইন যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্পের জন্য আগামী দুই বছর কঠিন হয়ে উঠবে। তার বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করতে পারবেন বিরোধীরা।
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে কত আসন প্রয়োজন ডেমোক্র্যাটদের: প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে নির্বাচন হচ্ছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের বর্তমান অবস্থান থেকে নিট তিনটি আসন বাড়াতে হবে। ফলে অল্প কয়েকটি আসনের ফলই নির্ধারণ করে দিতে পারে, কোন দল এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাবে।
সিনেটের হিসাব অবশ্য ভিন্ন। ১০০ সদস্যের এই কক্ষে এবার ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ১২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। বাকি আসনগুলোর বেশির ভাগই রিপাবলিকান অথবা ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটিতে।
বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সম্মিলিত আসন ৪৭টি।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের চারটি আসন বাড়িয়ে ৫১-তে পৌঁছাতে হবে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা সর্বোচ্চ তিনটি আসন হারিয়েও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন। কারণ, সিনেটে দুই দলের আসন সমান ৫০-৫০ হলে ভোটের অচলাবস্থা নিরসনে ভোট দিতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। বর্তমানে এ দায়িত্বে রয়েছেন রিপাবলিকান জেডি ভ্যান্স।
এ কারণে প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।




























