বাংলাদেশে ফের বিদ্যুৎ পাঠানো শুরু করেছে নেপাল
- আপডেট সময় : ০২:৪৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 21
ভোতেকোশির সেই ভয়াবহ বন্যায় নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে থমকে যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর কাজ। সেই বিপর্যয় কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আবার ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাঠানো শুরু করেছে নেপাল।
নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের আগস্টের ছাব্বিশ তারিখের সেই বন্যায় ত্রিশূলী আর চিলিম জলবিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি তছনছ হয়ে যায়। এই দুটি কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমোদন ছিল। বন্যা শুধু যে বাংলাদেশের সরবরাহ থামিয়ে দিয়েছিল তা-ই নয়, ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে পাঠানো বিদ্যুতেও টান ফেলেছিল।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অন্য কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার পর এই রপ্তানি আবার চালু করা সম্ভব হয়েছে।
নতুন এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, এখন থেকে সোলু খোলা আর কাবেলি বি-ওয়ান জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ যাবে। অন্যদিকে লোয়ার মোদি খোলা কেন্দ্রটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে হরিয়ানায় বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য। এই নতুন সিদ্ধান্তটি আগের ত্রিশূলী, চিলিম আর দেবীঘাট জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জায়গাকে স্থলাভিষিক্ত করল।
দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ আরও বললেন, বন্যায় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র আর সঞ্চালন লাইনের ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে আনা এবং অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবসা চালু রাখা নেপালের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি আশা করছেন, বর্ষার মৌসুমে বাড়তি তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ যেমন সুন্দরভাবে কাজে লাগানো যাবে, তেমনই অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুতের ব্যবসাকেও আরও প্রসারিত করা সম্ভব হবে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর এনইএ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে ঋতুভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহে পাঁচ বছরের চুক্তি সই হয়। সেই চুক্তি মেনেই প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।




























