ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদলের ওপর গোয়েন্দাগিরি- বিপজ্জনক বার্তা’

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 21

রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদলের উপরে গোয়েন্দাগিরি করার যে বার্তা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন সেটা অত্যন্ত বিপজ্জনক- বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কাজ থেকে সরিয়ে শুধুমাত্র বিরোধী রাজনৈতিক দলের পিছনে লেলিয়ে দেওয়া এবং বিরোধী দলকে টার্গেট করে নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার করা প্রমাণিতভাবে একটি ফ্যাসিবাদী চরিত্র।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত এমন মন্তব্য করেন। পোস্টের শুরুতেই তিনি প্রশ্ন করেন, একজন প্রধানমন্ত্রী কি রাষ্ট্রের গোয়েন্দাসংস্থা ব্যবহার করে বিরোধীদলের উপর গোয়েন্দাগিরি করার ঘোষণা প্রকাশ্যে দিতে পারেন? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি কোন দলের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা? নাকি দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করার কথা?

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিরোধীদলের উপর গোয়েন্দাসংস্থা লেলিয়ে দেওয়ার এই সংস্কৃতি আমাদের তো হাসিনার আমলের কথাই মনে করিয়ে দেয়৷ অথচ রঙ বেরঙের কার্ড ছাপানো কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন যুক্ত করেন, সরকার কি এসব নিয়ে আজ পর্যন্ত একটা তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে? উত্তর হলো, না৷

প্রধানমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অপব্যবহারের গভীরতর বার্তা দেয়, যা নিন্দনীয় বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন এনসিপির এই শীর্ষনেতা।

প্রসঙ্গত, এর আগে মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে। এই দুইপক্ষ এক হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে। আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদলের ওপর গোয়েন্দাগিরি- বিপজ্জনক বার্তা’

আপডেট সময় : ০১:০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদলের উপরে গোয়েন্দাগিরি করার যে বার্তা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন সেটা অত্যন্ত বিপজ্জনক- বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কাজ থেকে সরিয়ে শুধুমাত্র বিরোধী রাজনৈতিক দলের পিছনে লেলিয়ে দেওয়া এবং বিরোধী দলকে টার্গেট করে নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার করা প্রমাণিতভাবে একটি ফ্যাসিবাদী চরিত্র।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত এমন মন্তব্য করেন। পোস্টের শুরুতেই তিনি প্রশ্ন করেন, একজন প্রধানমন্ত্রী কি রাষ্ট্রের গোয়েন্দাসংস্থা ব্যবহার করে বিরোধীদলের উপর গোয়েন্দাগিরি করার ঘোষণা প্রকাশ্যে দিতে পারেন? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি কোন দলের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা? নাকি দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করার কথা?

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিরোধীদলের উপর গোয়েন্দাসংস্থা লেলিয়ে দেওয়ার এই সংস্কৃতি আমাদের তো হাসিনার আমলের কথাই মনে করিয়ে দেয়৷ অথচ রঙ বেরঙের কার্ড ছাপানো কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন যুক্ত করেন, সরকার কি এসব নিয়ে আজ পর্যন্ত একটা তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে? উত্তর হলো, না৷

প্রধানমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অপব্যবহারের গভীরতর বার্তা দেয়, যা নিন্দনীয় বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন এনসিপির এই শীর্ষনেতা।

প্রসঙ্গত, এর আগে মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে। এই দুইপক্ষ এক হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে। আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।