ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক আলিফ হত্যায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ, নীরব কলমাকান্দা প্রেসক্লাব!

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 23

Oplus_16908288

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফর জামান ওরফে আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হলেও নিহত সাংবাদিকের নিজ উপজেলা কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচির তথ্য সামনে আসেনি। এমনকি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বিবৃতি কিংবা শোকবার্তাও প্রকাশ হয়নি।

ইতোমধ্যে দুর্গাপুর, নেত্রকোনা সদর, পূর্বধলা, খালিয়াজুরী, কেন্দুয়া ও মদনসহ নেত্রকোনার বিভিন্ন স্থানে এবং ময়মনসিংহ, নান্দাইল, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও নাটোরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকেরা যখন সহকর্মী হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার, তখন নিজ উপজেলার প্রেসক্লাবের এমন নীরবতা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মানববন্ধন বা কর্মসূচি পালন করা মানে হলো প্রশাসনকে চাপে ফেলা। ইতোমধ্যে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাচ্ছে, পুলিশ কাজ করছে।”

নিহত সাংবাদিকের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলায় হওয়ায় এ ঘটনায় প্রেসক্লাবের ভূমিকা কী—পুনরায় জানতে চাইলে শেখ শামীম বলেন, “এ বিষয়ে আমি আর কোনো বক্তব্য দিতে চাচ্ছি না।”

তাহলে প্রেসক্লাবের কাজ কী?

একটি প্রেসক্লাব কি শুধু সাংবাদিকদের আড্ডা, সভা কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জায়গা, নাকি সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায়ও এর দায়িত্ব রয়েছে? একজন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তার বিচারের দাবি জানানো, পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানানো কি সাংবাদিক সংগঠনের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?

সচেতন মহলের প্রশ্ন, নিহত সাংবাদিকের নিজ উপজেলায় অবস্থিত প্রেসক্লাব যদি এমন একটি স্পর্শকাতর ঘটনায় কোনো দৃশ্যমান প্রতিবাদ, বিবৃতি কিংবা শোকবার্তা প্রকাশ না করে, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে সংগঠনটির ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা সম্পর্কে কী বার্তা যায়? সহকর্মীর বিপদের সময় পাশে দাঁড়াতে না পারলে সাংবাদিকদের ঐক্য ও পারস্পরিক সংহতির দাবি কতটা অর্থবহ—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

মানববন্ধন করলেই যে তদন্ত এগিয়ে যায়, এমন নয়। তবে প্রতিবাদ, বিবৃতি ও জনমত গঠন বিচার নিশ্চিত করার দাবিকে সামনে তুলে ধরতে পারে। তাই কর্মসূচি না নেওয়ার পেছনে কারণ থাকলে সেটি ব্যাখ্যা করাও প্রেসক্লাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি শুধু একটি পরিবারের দাবি নয়; এটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত সংহতি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। সেই প্রশ্নে কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের অবস্থান কী—এর স্পষ্ট জবাব প্রত্যাশা করছে সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সাংবাদিক আলিফ হত্যায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ, নীরব কলমাকান্দা প্রেসক্লাব!

আপডেট সময় : ০২:০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফর জামান ওরফে আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হলেও নিহত সাংবাদিকের নিজ উপজেলা কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচির তথ্য সামনে আসেনি। এমনকি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বিবৃতি কিংবা শোকবার্তাও প্রকাশ হয়নি।

ইতোমধ্যে দুর্গাপুর, নেত্রকোনা সদর, পূর্বধলা, খালিয়াজুরী, কেন্দুয়া ও মদনসহ নেত্রকোনার বিভিন্ন স্থানে এবং ময়মনসিংহ, নান্দাইল, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও নাটোরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকেরা যখন সহকর্মী হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার, তখন নিজ উপজেলার প্রেসক্লাবের এমন নীরবতা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মানববন্ধন বা কর্মসূচি পালন করা মানে হলো প্রশাসনকে চাপে ফেলা। ইতোমধ্যে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাচ্ছে, পুলিশ কাজ করছে।”

নিহত সাংবাদিকের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলায় হওয়ায় এ ঘটনায় প্রেসক্লাবের ভূমিকা কী—পুনরায় জানতে চাইলে শেখ শামীম বলেন, “এ বিষয়ে আমি আর কোনো বক্তব্য দিতে চাচ্ছি না।”

তাহলে প্রেসক্লাবের কাজ কী?

একটি প্রেসক্লাব কি শুধু সাংবাদিকদের আড্ডা, সভা কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জায়গা, নাকি সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায়ও এর দায়িত্ব রয়েছে? একজন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তার বিচারের দাবি জানানো, পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানানো কি সাংবাদিক সংগঠনের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?

সচেতন মহলের প্রশ্ন, নিহত সাংবাদিকের নিজ উপজেলায় অবস্থিত প্রেসক্লাব যদি এমন একটি স্পর্শকাতর ঘটনায় কোনো দৃশ্যমান প্রতিবাদ, বিবৃতি কিংবা শোকবার্তা প্রকাশ না করে, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে সংগঠনটির ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা সম্পর্কে কী বার্তা যায়? সহকর্মীর বিপদের সময় পাশে দাঁড়াতে না পারলে সাংবাদিকদের ঐক্য ও পারস্পরিক সংহতির দাবি কতটা অর্থবহ—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

মানববন্ধন করলেই যে তদন্ত এগিয়ে যায়, এমন নয়। তবে প্রতিবাদ, বিবৃতি ও জনমত গঠন বিচার নিশ্চিত করার দাবিকে সামনে তুলে ধরতে পারে। তাই কর্মসূচি না নেওয়ার পেছনে কারণ থাকলে সেটি ব্যাখ্যা করাও প্রেসক্লাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি শুধু একটি পরিবারের দাবি নয়; এটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত সংহতি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। সেই প্রশ্নে কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের অবস্থান কী—এর স্পষ্ট জবাব প্রত্যাশা করছে সচেতন মহল।