পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন বেলজিয়ামের ফ্রান্সিস হালজেন
- আপডেট সময় : ০৪:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 20
চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোম থেকে এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স।
বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে জ্যোতির্বিদ্যা ও পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কিত উৎসের উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেছেন।
দক্ষিণ মেরুর শত শত মিটার বরফের নিচে এমন এক বিশাল ফাঁদ পেতে সুদূর মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছেন এই বিজ্ঞানী। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স।
মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ও লাজুক কণার নাম নিউট্রিনো। এ কণার কোনো চার্জ নেই, ভরও প্রায় শূন্যের কোঠায়। অন্য কোনো পদার্থের সঙ্গে এর মেলামেশা বা মিথস্ক্রিয়া নেই বললেই চলে।
প্রতি সেকেন্ডে আপনার আঙুলের ডগার ওপর দিয়ে সূর্য থেকে আসা ৬৫ বিলিয়ন নিউট্রিনো চলে যাচ্ছে, অথচ আপনি কিছুই টের পাচ্ছেন না। কিন্তু এই অধরা কণাই যখন সুদূর কোনো গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রের বিস্ফোরণ থেকে হাজার কোটি মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীতে আসে, তখন তা সাথে নিয়ে আসে মহাবিশ্বের সবচেয়ে গোপন কিছু রহস্যের বার্তা। আর সেই অধরা ও রহস্যময় কণা শনাক্ত করে সেই বার্তা পাঠোদ্ধার করার উপায় আবিষ্কার করেছেন ফ্রান্সিস হালজেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হালজেন বুঝতে পেরেছিলেন, দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো নামে পরিচিত কণার গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব। পরে তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি হলো- এক ঘন কিলোমিটার আয়তনের বরফে স্থাপিত একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। সেখানে আলো শনাক্ত করার সেন্সর আছে। এটি ব্যবহার করে গবেষকেরা মহাবিশ্বের দূরবর্তী অঞ্চলের অত্যন্ত উচ্চশক্তির প্রক্রিয়া থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পারেন।
১৯০১ সালের পর থেকে পদার্থবিজ্ঞানে ১১৯ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম ২৫ বছর বয়সে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার উইলিয়াম লরেন্স ব্রাগ। তিনি এক্স-রে ব্যবহার করে স্ফটিকের গঠন বিশ্লেষণ করেছিলেন। সবচেয়ে বেশি ৯৬ বছর বয়সে পুরস্কারটি পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থার আশকিন। জৈবিক ব্যবস্থায় অপটিক্যাল টুইজার ও এর প্রয়োগের জন্য তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।




























