ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিয়েভে জার্মান চ্যান্সেলরের সফরের মধ্যেই রাশিয়ার হামলা

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 10

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রোববার একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের আকস্মিক সফরের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ইউক্রেনে হামলার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় সমর্থন জানাতে ম্যার্ৎস এ সফর করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কিয়েভে বারবার বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে থাকে। এমনকি ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সফররত ম্যার্ৎসের বৈঠকের সময়ও সাইরেন বাজে। গত সোমবার এই ভবনে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল মস্কো।

বৈঠকে জার্মান চ্যান্সেলরকে জেলেনস্কি জানান, বিরতিহীন রুশ হামলার কারণে কিয়েভের বাসিন্দারা ভয়াবহ দিন-রাত পার করছেন। পরিস্থিতি দেখে ম্যার্ৎস বলেন, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকের ওপর বর্বর হামলা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। এখানে প্রতিদিনই যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, রোববারের হামলায় ‘নর্দান ব্রিজের’ ওপরের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দিনিপ্রো নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি শহরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে যুক্ত করেছে। গত চারদিনে নদীর ওপর থাকা এরকম কয়েকটি সেতুতে হামলা হয়েছে।

ক্লিৎসকো বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ফ্রন্টলাইন বা সম্মুখভাগের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে কিয়েভ অনেকটাই বেঁচে গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি হামলার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শহরটিতে যুদ্ধের সব প্রস্তুতি রাখা উচিত।
এর আগে কিয়েভে পৌঁছে জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন প্রয়োজন। রাশিয়াকে যদি থামানো না হয়, তাহলে একদিন ‘যুদ্ধ আমাদের দিকেও’ মোড় নেবে।

ইউক্রেন বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে থেকে আরও বেশি সামরিক সহায়তা চাইছে। এর মধ্যে আছে রাশিয়ার নতুন ও দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন ভূপাতিত করার অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর।
জার্মান চ্যান্সেলরের সফরে রোববার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জেলেনস্কি। আর বার্লিনের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশ দুটির মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের নতুন সামরিক সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে চুক্তি হতে পারে।

জার্মান সূত্রগুলো আরও জানায়, এই প্যাকেজে কমব্যাট ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি থাকবে। এগুলো ইউক্রেনকে রাশিয়ার লঞ্চ সাইটগুলোতে (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ছোড়ার স্থান) আঘাত হানতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি যৌথভাবে অ্যান্টি-জেট ড্রোন উৎপাদনের বিষয়টিও চুক্তিতে থাকতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কিয়েভে জার্মান চ্যান্সেলরের সফরের মধ্যেই রাশিয়ার হামলা

আপডেট সময় : ০৬:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রোববার একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের আকস্মিক সফরের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ইউক্রেনে হামলার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় সমর্থন জানাতে ম্যার্ৎস এ সফর করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কিয়েভে বারবার বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে থাকে। এমনকি ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সফররত ম্যার্ৎসের বৈঠকের সময়ও সাইরেন বাজে। গত সোমবার এই ভবনে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল মস্কো।

বৈঠকে জার্মান চ্যান্সেলরকে জেলেনস্কি জানান, বিরতিহীন রুশ হামলার কারণে কিয়েভের বাসিন্দারা ভয়াবহ দিন-রাত পার করছেন। পরিস্থিতি দেখে ম্যার্ৎস বলেন, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকের ওপর বর্বর হামলা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। এখানে প্রতিদিনই যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, রোববারের হামলায় ‘নর্দান ব্রিজের’ ওপরের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দিনিপ্রো নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি শহরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে যুক্ত করেছে। গত চারদিনে নদীর ওপর থাকা এরকম কয়েকটি সেতুতে হামলা হয়েছে।

ক্লিৎসকো বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ফ্রন্টলাইন বা সম্মুখভাগের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে কিয়েভ অনেকটাই বেঁচে গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি হামলার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শহরটিতে যুদ্ধের সব প্রস্তুতি রাখা উচিত।
এর আগে কিয়েভে পৌঁছে জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন প্রয়োজন। রাশিয়াকে যদি থামানো না হয়, তাহলে একদিন ‘যুদ্ধ আমাদের দিকেও’ মোড় নেবে।

ইউক্রেন বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে থেকে আরও বেশি সামরিক সহায়তা চাইছে। এর মধ্যে আছে রাশিয়ার নতুন ও দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন ভূপাতিত করার অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর।
জার্মান চ্যান্সেলরের সফরে রোববার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জেলেনস্কি। আর বার্লিনের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশ দুটির মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের নতুন সামরিক সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে চুক্তি হতে পারে।

জার্মান সূত্রগুলো আরও জানায়, এই প্যাকেজে কমব্যাট ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি থাকবে। এগুলো ইউক্রেনকে রাশিয়ার লঞ্চ সাইটগুলোতে (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ছোড়ার স্থান) আঘাত হানতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি যৌথভাবে অ্যান্টি-জেট ড্রোন উৎপাদনের বিষয়টিও চুক্তিতে থাকতে পারে।