ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ১৭৪৭

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 9

শিক্ষার মান বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কমানো এবং শিক্ষক-সংকট দূরীকরণের দাবিতে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনায় দেশটির ৭ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে অন্তত ৩০৫ জন পুলিশ সদস্য ও ৬৫ স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। সহিংসতার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১৭৪৭ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যাদের সিংহভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ে বিক্ষোভ চলাকালে একটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করতে দেখা গেছে। উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের নঁত শহরের একটি স্কুলে অগ্নিসংযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আগামী এক মাস সশরীরে পাঠদান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে রাজধানী প্যারিসে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, এর মধ্যে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ঘোষণা করে নুনেজ ফ্রান্সের টিএফ ১ টেলিভিশনকে বলেন, দাঙ্গা ও সহিংসতা বাড়ছে। পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে আমরা সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল দারমানিন জানান, ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০টি স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি এখন সহিংস বিক্ষোভের কারণে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে অশিক্ষার্থীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। তারাই সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ধাওয়া করছে। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে মাথায় একাধিকবার ঘুষি ও লাথি মারা হয়। বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৬৫ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকর্মী আহত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে স্কুল অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর তা সারা দেশের শত শত স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্কুলে থাকার সময় অনেক বেশি, শ্রেণিকক্ষ অতিরিক্ত গরম এবং অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন।

এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জন্য আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস বাকি। এ সময় শিক্ষাখাতে অর্থায়নে প্রভাব ফেলবে এমন পরিকল্পিত বাজেট কাটছাঁট তরুণ বিক্ষোভকারীদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে সন্তানেরা আটকে পড়ায় অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

ফ্রান্সের অনেক শ্রমিক ইউনিয়ন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। শিক্ষা ইউনিয়ন এসএনইপি-এফএসইউ, সরকারি পরিষেবা ইউনিয়ন এসএনইউইপি-এফএসইউ এবং সলিডেয়ারস তাদের সদস্যদের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সলিডেয়ারস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের যেন আমাদের সন্তানদের ওপর গুলি চালাতে না দেওয়া হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, সংগঠন ও বিক্ষোভ করার স্বাধীনতা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ১৭৪৭

আপডেট সময় : ০৮:২৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার মান বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কমানো এবং শিক্ষক-সংকট দূরীকরণের দাবিতে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনায় দেশটির ৭ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে অন্তত ৩০৫ জন পুলিশ সদস্য ও ৬৫ স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। সহিংসতার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১৭৪৭ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যাদের সিংহভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ে বিক্ষোভ চলাকালে একটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করতে দেখা গেছে। উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের নঁত শহরের একটি স্কুলে অগ্নিসংযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আগামী এক মাস সশরীরে পাঠদান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে রাজধানী প্যারিসে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, এর মধ্যে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ঘোষণা করে নুনেজ ফ্রান্সের টিএফ ১ টেলিভিশনকে বলেন, দাঙ্গা ও সহিংসতা বাড়ছে। পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে আমরা সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল দারমানিন জানান, ফ্রান্সের ৩ হাজার ৭০০টি স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি এখন সহিংস বিক্ষোভের কারণে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে অশিক্ষার্থীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। তারাই সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ধাওয়া করছে। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে মাথায় একাধিকবার ঘুষি ও লাথি মারা হয়। বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৬৫ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকর্মী আহত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে স্কুল অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর তা সারা দেশের শত শত স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্কুলে থাকার সময় অনেক বেশি, শ্রেণিকক্ষ অতিরিক্ত গরম এবং অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন।

এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জন্য আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস বাকি। এ সময় শিক্ষাখাতে অর্থায়নে প্রভাব ফেলবে এমন পরিকল্পিত বাজেট কাটছাঁট তরুণ বিক্ষোভকারীদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে সন্তানেরা আটকে পড়ায় অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

ফ্রান্সের অনেক শ্রমিক ইউনিয়ন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। শিক্ষা ইউনিয়ন এসএনইপি-এফএসইউ, সরকারি পরিষেবা ইউনিয়ন এসএনইউইপি-এফএসইউ এবং সলিডেয়ারস তাদের সদস্যদের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সলিডেয়ারস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের যেন আমাদের সন্তানদের ওপর গুলি চালাতে না দেওয়া হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, সংগঠন ও বিক্ষোভ করার স্বাধীনতা রয়েছে।