কিছু দল দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 20
কিছু দল দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে যাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়— আমরা দেখেছি কীভাবে বিগত ১৬ বছর ভূলুণ্ঠিত করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে আইনের শাসন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। কিন্তু আমরা খেয়াল করছি কিছু কিছু রাজনৈতিক দল কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এসব বিভ্রান্তকারীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন’ প্রকল্পের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললাম, কৃষক কার্ডের কথা বললাম, খাল খননের কথা বললাম, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের কথা বললাম, বন্ধ মিল-কলকারখানা চালু করার কথা বললাম— এই কাজগুলো যদি বিঘ্ন ঘটে, ক্ষতি কার হবে? এদেশের মানুষের না বিদেশি মানুষের। এদেশের মানুষের হবে। কিন্তু এই রাজনৈতিক দলগুলো— তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘এখানে মুরুব্বিরা আছেন। আমরা দেখেছি কী ভূমিকা ছিল এই রাজনৈতিক দলের, যারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে; তাদের একাত্তর সালে কী ভূমিকা ছিল— এই মুরুব্বিদের মনে আছে। আমরা দেখেছি, ওই সময়ে তারা কীভাবে অন্যায় করেছিল, মা-বোনদেরকে হয়রানি করেছিল, মা-বোনদেরকে নির্যাতন করেছিল।
এদিন দুপুর ২টা ১০ মিনিটে পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন’ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন সরকারপ্রধান। তিনি সেখানে বৃক্ষরোপণও করেন। এরপর খালখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান।
ওরা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে : জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণকে বিভ্রান্ত করে তারা কিছু সংসদীয় আসনে নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখেছি, এদিকে তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে এবং তারা যেভাবে একাত্তর সালে মা-বোনদের নির্যাতন করেছিল, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি আবার সেই তারা নারী নির্যাতন শুরু করেছে। আমরা দেখেছি কীভাবে এই গুপ্ত বাহিনীর একজন সদস্য নারীর ওপর নির্যাতন করেছে এবং নির্যাতন করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে, তদন্তাধীন বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু মানুষ বলে শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি, একটি মানুষকে জীবনাবসান করে দিয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, বিভিন্ন মিডিয়াতে দেখলাম, সেই গুপ্ত দলের নেতারা খুব নসিহত করছে আমাদেরকে ‘যে আপনারা এই করেন, আপনারা ওই করেন। আমি এখানে হাজারো লোকের উদ্দেশে তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, দয়া করে নিজের ঘরের দিকে তাকান। নিজের ঘরের লোকেরা কীভাবে নারী নির্যাতন করছে, কীভাবে কী করছে সেটি আগে সামাল দিন। তার পরে অন্যকে কিছু বলতে এসেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সময় এসেছে আমাদের সতর্ক হওয়ার— কীভাবে আমরা দেশকে পরিচালনা করব? আজকে সময় এসেছে কীভাবে আমরা কাদের কথা বিশ্বাস করব; আর কাদের কথা বিশ্বাস, করব না। আজকে সময় এসেছে কাদেরকে জনগন সমর্থন দেবে, আর কাদেরকে সমর্থন দেবে না। আসুন যেকোনো মূল্যে আমরা গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখি। রাখব ইনশাল্লাহ।
গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে : যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময়ে আমরা দেখেছি, একটি গুপ্ত বাহিনী কীভাবে দেশের মানুষকে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির কথা বলে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। আজকে সময় এসেছে বিভ্রান্তকারীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় থেকে কীভাবে তারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, ’৮৬ সালে আমরা দেখেছি কীভাবে গণতন্ত্রের বিপক্ষে তারা দাঁড়িয়েছিল। প্রত্যেকটি সময় আমরা দেখেছি এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন, গুপ্ত দলটি সবসময় দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মসূচি জনগণের জন্য কর্মসূচি, বিএনপির কর্মসূচি জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের কর্মসূচি। আপনারা সমর্থন দিয়েছিলেন বলেই আজ বিএনপি মানুষের কল্যাণের জন্য যেসব কর্মসূচি, সেগুলো বাস্তবায়ন করছে। এখানে মানুষজন বলেছেন, এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। দেশের মানুষের কর্মসূচিকে বাধাদানকারীদেরকে কঠোরভাবে জবাব দিতে হবে। প্রস্তুত আছেন আপনারা? জনগণের কর্মসূচি পালন করতে আপনারা প্রস্তুত আছেন। আসুন আমরা হাত তুলে জনগণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করি।
সব উপজেলা হাসপাতাল দেড়শ শয্যার হবে : তারেক রহমান বলেন, পরশুরাম উপজেলায় ৫০ বেডের হাসপাতাল আছে। এই হাসপাতাল নির্মাণ করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তখন ছিল ৩০ বেডের। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি চলে যাওয়ার পরে আপনাদের সন্তান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবার পর সেই হাসপাতাল ৫০ বেডে উন্নীত করেছিলেন। এই এলাকার মানুষের দাবি এই হাসপাতালকে একশ বেডে রূপান্তরিত করা। ইনশাল্লাহ এই হাসপাতালকে আমরা দেড়শ বেডে উন্নীত করব। আগামী ৫ বছরের মধ্যে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া দল দেশের মানুষ যাতে সঠিক চিকিৎসা পায়, তার জন্য সারা দেশের উপজেলার হাসপাতালগুলো ৫০ শয্যা থেকে দেড়শ শয্যার হাসপাতালে আমরা উন্নীত করব; যাতে করে উপজেলার মানুষকে অসুস্থ হলে জেলা অথবা ঢাকা শহরে যেতে না হয়।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিবেশমন্ত্রী ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হেসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু।
এ সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী যান ফুলগাজী বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে। সেখানে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।




























