যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে যে সতর্কবার্তা দিল ইরান
- আপডেট সময় : ১১:০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের পক্ষ থেকে অঞ্চলটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘জঘন্য ও অপরাধমূলক উপস্থিতি’ থেকে মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
আইআরজিসির এ সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনায় ফিরতে চাইলে এখনো ‘আলোচনার টেবিলে’ ফেরার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ইরান ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয়নি। তার দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরাক প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে। একই সময়ে দেশটির মাসিক রপ্তানি আয়ও প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ইরানের সব বিমান সংস্থার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে জড়িত বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার পরও ইরানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ইরান এয়ার তেহরান, মাশহাদ ও ইসফাহান থেকে ইরাকের নাজাফে ফ্লাইট চালু রাখার কথা জানিয়েছে। ফলে ইরানের বিমান চলাচল খাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রভাব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। তবে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
























