আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় : ১১:১০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 14
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা আরেপ করা হলে আদালতটির সঙ্গে বেশিরভাগ আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে চলতি সপ্তাহেই নতুন নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে পারে ওয়াশিংটন। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে নির্দিষ্ট কর্মকর্তার পরিবর্তে সরাসরি আইসিসির প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রমে বড় ধরনের আর্থিক বাধা তৈরি হবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ছয় থেকে সাত মাসের একটি সময়সীমা শেষে আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে। ফলে আদালটির আন্তর্জাতিক কার্যক্রম পরিচালনা ও অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত আইসিসির নির্দিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীদের লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেই নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে—কারণ এবার পুরো প্রতিষ্ঠানটিই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে।
ইতিমধ্যে আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালটির আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা একটি নির্বাহী আদেশের আওতায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই আদেশে আইসিসির বিচারিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল মার্কিন প্রশাসন।
প্রসঙ্গত আইসিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের অন্যতম বড় কারণ ইসরায়েল-গাজা সংঘাত নিয়ে আদালতের কার্যক্রম। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর থেকেই আইসিসির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।
আফগানিস্তানে মার্কিন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির তদন্তও ওয়াশিংটনের আপত্তির আরেকটি কারণ। ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পেছনে এই দুই বিষয়—আফগানিস্তান ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত আইসিসির কার্যক্রম—গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে আইসিসি। আদালতের প্রেসিডেন্ট ও প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আদালত এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর ‘স্পষ্ট আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিবাদ জানায়।
আইসিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন আদালতের প্রেসিডেন্ট ও জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে এবং প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেইয়ে।
এদিকে সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র আগাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে নেওয়া পদক্ষেপের গণ্ডি পেরিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক কার্যক্রম পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
























