ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে দুর্নীতির অনুসন্ধানে যাওয়া সাংবাদিকের ওপর হামলা

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 19

Oplus_16908288

ঢাকার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, দালালনির্ভরতা ও সরকারি রেকর্ডের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলাম গাজী (জি এম রফিক) হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরাম নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনগুলো হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। আগামী রোববারের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে দালাল ছাড়া জমি রেজিস্ট্রির কাজ করা কঠিন। কমপ্লেক্সের আশপাশে সক্রিয় রয়েছে প্রায় অর্ধশত দালাল। সরকারি ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া এবং অর্থ না দিলে দলিলে স্বাক্ষর না করার মতো অভিযোগও রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রেকর্ড রুম নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো নিয়োগপত্রবিহীন ব্যক্তি বালাম বা ভলিউম তল্লাশির কাজে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডে অননুমোদিত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রেকর্ড রুমের প্রবেশ রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্টদের নিয়োগসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

এদিকে মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির এবং খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ঘিরেও ঘুষ, প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মাইকেলের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অভিযোগে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন এবং অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

সাংবাদিক জি এম রফিকের অভিযোগে হামলায় কয়েকজন ওমেদার ও রেজিস্ট্রি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম এসেছে। হামলার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত এবং কারও ইন্ধন ছিল কি না—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

রেজিস্ট্রেশন খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং সাংবাদিকের ওপর হামলা—দুই বিষয়েই নিরপেক্ষ তদন্ত এখন জরুরি। প্রশ্ন হলো, অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় এনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি সবকিছুই থেকে যাবে অভিযোগের ফাইলে?

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে দুর্নীতির অনুসন্ধানে যাওয়া সাংবাদিকের ওপর হামলা

আপডেট সময় : ১০:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, দালালনির্ভরতা ও সরকারি রেকর্ডের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলাম গাজী (জি এম রফিক) হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরাম নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনগুলো হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। আগামী রোববারের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে দালাল ছাড়া জমি রেজিস্ট্রির কাজ করা কঠিন। কমপ্লেক্সের আশপাশে সক্রিয় রয়েছে প্রায় অর্ধশত দালাল। সরকারি ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া এবং অর্থ না দিলে দলিলে স্বাক্ষর না করার মতো অভিযোগও রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রেকর্ড রুম নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো নিয়োগপত্রবিহীন ব্যক্তি বালাম বা ভলিউম তল্লাশির কাজে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডে অননুমোদিত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রেকর্ড রুমের প্রবেশ রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্টদের নিয়োগসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

এদিকে মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির এবং খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ঘিরেও ঘুষ, প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মাইকেলের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অভিযোগে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন এবং অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

সাংবাদিক জি এম রফিকের অভিযোগে হামলায় কয়েকজন ওমেদার ও রেজিস্ট্রি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম এসেছে। হামলার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত এবং কারও ইন্ধন ছিল কি না—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

রেজিস্ট্রেশন খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং সাংবাদিকের ওপর হামলা—দুই বিষয়েই নিরপেক্ষ তদন্ত এখন জরুরি। প্রশ্ন হলো, অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় এনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি সবকিছুই থেকে যাবে অভিযোগের ফাইলে?