নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ১৩৮০, জাতীয় শোক
- আপডেট সময় : ০৬:৫৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 34
নেপালে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮০ জনে। এছাড়া সাড়ে ৫ হাজারের মতো মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তারা মূলত ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন। নিহতদের স্মরণে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে নেপাল। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল।
নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মাসের ভয়াবহ বন্যার পর ১৩তম দিনে এ শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, এটি শোক পালনের শেষ দিন। এদিন নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয় এবং স্বজনেরা পরস্পরের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান।
জাতীয় শোকের অংশ হিসেবে দেশটির সরকারি কার্যালয় এবং বিদেশে অবস্থিত নেপালি দূতাবাস ও মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
তবে শোক দিবস উপলক্ষে সরকার বড় কোনো কর্মসূচি নেয়নি। কারণ, বন্যাকবলিত এলাকায় এখনো উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে প্রয়োজনীয় সম্পদেরও সংকট রয়েছে।
ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের (এনইওসি) কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পৌডেল বলেন, ‘উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান এখনো চলছে। তাই এদিন সরকারের কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি।’
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তের হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের বিশাল একটি অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে। এতে কাদা ও পাথরের ভয়াবহ স্রোত নেমে এসে বন্যার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৩৮০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি এখনো নিখোঁজ।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উদ্ধারকারীরা চারজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। সর্বশেষ শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন আরেকটি টানেল থেকে দুই জলবিদ্যুৎকর্মী ও একটি বাড়ি থেকে এক নেপালি নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিখোঁজ স্বজনদের দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শত শত মানুষ বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন কিংবা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান চলছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ৯০০ কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন টানেলে প্রায় ৫০০ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলও কাজ করছে। ধ্বংসস্তূপ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও টানেলে চলছে ব্যাপক তল্লাশি।
























