ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় হোটেলে আগুন, ৯ বাংলাদেশি নিহত

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেটের পার্শ্ববর্তী মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। আগুন লাগার সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর ৩টার দিকে হোটেলটিতে আগুন লাগার খবর পায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। হোটেলের চারতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরই মধ্যে হোটেলের একটি অংশ পুড়ে যায়।

মির্জা গালিব স্ট্রিট কলকাতার নিউ মার্কেটের পাশেই অবস্থিত। নিউ মার্কেটের পেছনের অংশ ও আশপাশের কয়েকটি প্রধান গলি এ সড়কের সঙ্গে যুক্ত। দমকল বাহিনী জানিয়েছে, আগুনে নিহত নয়জনই বাংলাদেশি নাগরিক। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই।

নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হোটেলের ভেতরে আটকা পড়া অবস্থায়ই অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের শরীরে পোড়ার চিহ্ন থাকলেও চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রাথমিকভাবে হোটেলের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে অনেক অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল না; শুধু কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হোটেলের ভেতরে থাকা লোকজন দ্রুত বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

হোটেলটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সংকীর্ণ হওয়ায় এ সময় হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়লে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দমকল ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি তাদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক আছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কলকাতায় হোটেলে আগুন, ৯ বাংলাদেশি নিহত

আপডেট সময় : ০১:৫০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেটের পার্শ্ববর্তী মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। আগুন লাগার সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর ৩টার দিকে হোটেলটিতে আগুন লাগার খবর পায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। হোটেলের চারতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরই মধ্যে হোটেলের একটি অংশ পুড়ে যায়।

মির্জা গালিব স্ট্রিট কলকাতার নিউ মার্কেটের পাশেই অবস্থিত। নিউ মার্কেটের পেছনের অংশ ও আশপাশের কয়েকটি প্রধান গলি এ সড়কের সঙ্গে যুক্ত। দমকল বাহিনী জানিয়েছে, আগুনে নিহত নয়জনই বাংলাদেশি নাগরিক। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই।

নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হোটেলের ভেতরে আটকা পড়া অবস্থায়ই অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের শরীরে পোড়ার চিহ্ন থাকলেও চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রাথমিকভাবে হোটেলের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে অনেক অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল না; শুধু কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হোটেলের ভেতরে থাকা লোকজন দ্রুত বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

হোটেলটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সংকীর্ণ হওয়ায় এ সময় হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়লে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দমকল ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি তাদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক আছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।