ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্র্যান্ডিংয়ে হরিলুট, নেপথ্যে অসাধু চক্র!

এসএম শামীম
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 62

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি-এর বিভিন্ন শাখা ও স্থাপনায় সাইনেজ, ব্র্যান্ডিং ও রক্ষণাবেক্ষণ (সার্ভিসিং) খাতের কাজে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম, কৃত্রিমভাবে দর বৃদ্ধি এবং কাজ বণ্টন ও ভেন্ডর নির্বাচনে চরম পক্ষপাতিত্বের নথিপত্র এসেছে ‘নিউজ এন্ড বিজনেস’-এর হাতে। সমসাময়িক অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের তুলনায় ব্র্যাক ব্যাংকে ব্র্যান্ডিং সামগ্রী ক্রয় ও মেরামতে ১০% থেকে শুরু করে ১০০% (দ্বিগুণ) পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত নথিপত্র ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি কেবল কোনো একক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নয়; বরং একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যাংক প্রোকিউরমেন্টের একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং বিভাগের একজন কর্মকর্তারও রয়েছে বেনামী প্রতিষ্ঠান। এছাড়া পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোও কমিশনের বিনিময়ে বাগিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকার কাজ।

এসব ভৌতিক ব্যয়, বেনামী ফার্মের কাজ পাওয়া এবং নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে লিখিত চিঠি পাঠানোর পূর্বে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা এবং খুদেবার্তায় পরপর দুইবার তথ্য ও বক্তব্য চাওয়া হয়। তবে এতে তারা কোনো সাড়া দেয়নি। পরবর্তীতে গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে ৩ (তিন) কর্মদিবসের সময় দেওয়া হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চূড়ান্তভাবে রহস্যজনক নীরবতা অবলম্বন করেছে।

দ্বিগুণ দরে এসিপি সাইনেজ ও সার্ভিসিংয়ে সাড়াশী লুট
‘নিউজ এন্ড বিজনেস’-এর অনুসন্ধানী টিমের প্রাপ্ত নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্র্যাক ব্যাংকে সবচেয়ে বড় আর্থিক অসংগতি ঘটেছে অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল (এসিপি) সাইন বোর্ডে!
* এসিপি সাইন বোর্ড: অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকে যেখানে প্রতি বর্গফুট ৩ মিমি এসিপি সাইন বোর্ডের দর ১,২০০ থেকে ১,৬০০ টাকা, সেখানে ব্র্যাক ব্যাংক পরিশোধ করছে ২,৮০০ টাকা। অর্থাৎ, প্রায় ১০০% বা দ্বিগুণ দামে এই সাইনবোর্ড কেনা হচ্ছে।
* এসিপি বোর্ড সার্ভিসিং: পুরোনো সাইনবোর্ড মেরামতের নামে ঘটেছে আরেক দফায় অর্থ লোপাট। অন্যান্য ব্যাংকে সার্ভিসিং ফি প্রতি বর্গফুট ২১০ থেকে ২৩০ টাকা হলেও ব্র্যাকে দেওয়া হচ্ছে ৪৫০ টাকা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামান্য লাইট পরিবর্তন বা ছোটখাটো ত্রুটি মেরামতে যেখানে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা, সেখানে শাখা প্রতি ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সার্ভিসিং বিল পাস করানো হয়েছে।
অন্যান্য ব্র্যান্ডিং সামগ্রীতেও লাগামহীন দর
বাজারদরের তোয়াক্কা না করে ব্র্যান্ডিংয়ের প্রায় প্রতিটি আইটেমেই অতিরিক্ত মূল্য ধরা হয়েছে!
* প্যানাফ্লেক্স লাইটবক্স: অন্যান্য ব্যাংকে প্রতি বর্গফুট ৩৭০ থেকে ৩৯০ টাকা হলেও ব্র্যাক ব্যাংক দিচ্ছে ৪৩০ টাকা।
* ওয়ান ওয়ে ভিশন: বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দর থাকলেও ব্র্যাকে তা ৬৫ টাকা প্রতি বর্গফুট।
* টেবিল টকার: অন্যান্য ব্যাংকে প্রতি পিস ৮০ টাকা হলেও ব্র্যাকে বিল করা হচ্ছে ১২০ টাকা (৫০% বেশি)।
* ভিনাইল প্রিন্ট: অন্যান্য ব্যাংকে প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা হলেও ব্র্যাকে দেওয়া হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।
এর বাইরেও প্রতিটি শাখায় কাজ বাস্তবায়নের সময় অস্বাভাবিক অঙ্কের ‘ইনস্টলেশন ফি’ যুক্ত করে চূড়ান্ত বিল স্ফীত করার তথ্য মিলেছে।

পুরোনো প্রতিষ্ঠান উপেক্ষিত, রাজত্ব করছে অসাধু সিন্ডিকেট
ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্যাংকের ই-টেন্ডার ব্যবস্থার নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাজ বণ্টন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে সুনামের সাথে কাজ করে আসা অভিজ্ঞ ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত কম কাজ দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে, অসাধু চক্রটির পছন্দসই গুটি কয়েকজন ভেন্ডরই বাগিয়ে নিচ্ছে সিংহভাগ কাজ।

গোপন ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে শক্তিশালী এক সিন্ডিকেট। প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ যোগসাজশে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকের প্রোকিউরমেন্ট ও ব্র্যান্ডিং বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে একটি বেনামী ফার্ম পরিচালিত হচ্ছে, যা আড়ালে থেকে ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে। কাজের চাহিদা তৈরি, কোটেশন আহ্বান, অনুমোদন, ওয়ার্ক অর্ডার থেকে শুরু করে বিল পাসের প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট এই চক্রটিই একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

জবাবহীন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা
এসব অস্বাভাবিক দর নির্ধারণ, বাজারদর যাচাইয়ের অভাব, ভেন্ডর নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ অডিট সংক্রান্ত একাধিক সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তুলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হলেও ব্র্যাক ব্যাংকের পাবলিক রিলেশনস ও ব্র্যান্ডিং বিভাগ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিক খুদেবার্তা ও লিখিত চিঠির জবাবে কর্তৃপক্ষের এই নীরবতা অনিয়মের অভিযোগকে আরও জোরদার করে।

আরো পড়ুন : ব্র্যাক ব্যাংকে রাজুর দাপট, প্রশ্নে ব্র্যান্ডিং!

ব্যাংক খাতের সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, আমানতকারীদের অর্থে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে কৃত্রিমভাবে দ্বিগুণ দর অনুমোদন করা এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ বণ্টন প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের চরম লঙ্ঘন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে অবিলম্বে এ খাতের নিরপেক্ষ ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা জরুরি।

​(ব্র্যাক ব্যাংকের ব্র্যান্ডিং খাতের এই হরিলুট সংক্রান্ত অনুসন্ধানের এটিই শেষ নয়। আগামী পর্বে থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট তদারকি বিভাগের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্তৃপক্ষের মতামতসহ বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন। তবে এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক বা সংশ্লিষ্টদের কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হবে।)

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্র্যান্ডিংয়ে হরিলুট, নেপথ্যে অসাধু চক্র!

আপডেট সময় : ১২:১৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি-এর বিভিন্ন শাখা ও স্থাপনায় সাইনেজ, ব্র্যান্ডিং ও রক্ষণাবেক্ষণ (সার্ভিসিং) খাতের কাজে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম, কৃত্রিমভাবে দর বৃদ্ধি এবং কাজ বণ্টন ও ভেন্ডর নির্বাচনে চরম পক্ষপাতিত্বের নথিপত্র এসেছে ‘নিউজ এন্ড বিজনেস’-এর হাতে। সমসাময়িক অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের তুলনায় ব্র্যাক ব্যাংকে ব্র্যান্ডিং সামগ্রী ক্রয় ও মেরামতে ১০% থেকে শুরু করে ১০০% (দ্বিগুণ) পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত নথিপত্র ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি কেবল কোনো একক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নয়; বরং একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যাংক প্রোকিউরমেন্টের একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং বিভাগের একজন কর্মকর্তারও রয়েছে বেনামী প্রতিষ্ঠান। এছাড়া পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোও কমিশনের বিনিময়ে বাগিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকার কাজ।

এসব ভৌতিক ব্যয়, বেনামী ফার্মের কাজ পাওয়া এবং নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে লিখিত চিঠি পাঠানোর পূর্বে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা এবং খুদেবার্তায় পরপর দুইবার তথ্য ও বক্তব্য চাওয়া হয়। তবে এতে তারা কোনো সাড়া দেয়নি। পরবর্তীতে গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে ৩ (তিন) কর্মদিবসের সময় দেওয়া হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চূড়ান্তভাবে রহস্যজনক নীরবতা অবলম্বন করেছে।

দ্বিগুণ দরে এসিপি সাইনেজ ও সার্ভিসিংয়ে সাড়াশী লুট
‘নিউজ এন্ড বিজনেস’-এর অনুসন্ধানী টিমের প্রাপ্ত নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্র্যাক ব্যাংকে সবচেয়ে বড় আর্থিক অসংগতি ঘটেছে অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল (এসিপি) সাইন বোর্ডে!
* এসিপি সাইন বোর্ড: অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকে যেখানে প্রতি বর্গফুট ৩ মিমি এসিপি সাইন বোর্ডের দর ১,২০০ থেকে ১,৬০০ টাকা, সেখানে ব্র্যাক ব্যাংক পরিশোধ করছে ২,৮০০ টাকা। অর্থাৎ, প্রায় ১০০% বা দ্বিগুণ দামে এই সাইনবোর্ড কেনা হচ্ছে।
* এসিপি বোর্ড সার্ভিসিং: পুরোনো সাইনবোর্ড মেরামতের নামে ঘটেছে আরেক দফায় অর্থ লোপাট। অন্যান্য ব্যাংকে সার্ভিসিং ফি প্রতি বর্গফুট ২১০ থেকে ২৩০ টাকা হলেও ব্র্যাকে দেওয়া হচ্ছে ৪৫০ টাকা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামান্য লাইট পরিবর্তন বা ছোটখাটো ত্রুটি মেরামতে যেখানে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা, সেখানে শাখা প্রতি ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সার্ভিসিং বিল পাস করানো হয়েছে।
অন্যান্য ব্র্যান্ডিং সামগ্রীতেও লাগামহীন দর
বাজারদরের তোয়াক্কা না করে ব্র্যান্ডিংয়ের প্রায় প্রতিটি আইটেমেই অতিরিক্ত মূল্য ধরা হয়েছে!
* প্যানাফ্লেক্স লাইটবক্স: অন্যান্য ব্যাংকে প্রতি বর্গফুট ৩৭০ থেকে ৩৯০ টাকা হলেও ব্র্যাক ব্যাংক দিচ্ছে ৪৩০ টাকা।
* ওয়ান ওয়ে ভিশন: বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দর থাকলেও ব্র্যাকে তা ৬৫ টাকা প্রতি বর্গফুট।
* টেবিল টকার: অন্যান্য ব্যাংকে প্রতি পিস ৮০ টাকা হলেও ব্র্যাকে বিল করা হচ্ছে ১২০ টাকা (৫০% বেশি)।
* ভিনাইল প্রিন্ট: অন্যান্য ব্যাংকে প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা হলেও ব্র্যাকে দেওয়া হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।
এর বাইরেও প্রতিটি শাখায় কাজ বাস্তবায়নের সময় অস্বাভাবিক অঙ্কের ‘ইনস্টলেশন ফি’ যুক্ত করে চূড়ান্ত বিল স্ফীত করার তথ্য মিলেছে।

পুরোনো প্রতিষ্ঠান উপেক্ষিত, রাজত্ব করছে অসাধু সিন্ডিকেট
ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্যাংকের ই-টেন্ডার ব্যবস্থার নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাজ বণ্টন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে সুনামের সাথে কাজ করে আসা অভিজ্ঞ ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত কম কাজ দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে, অসাধু চক্রটির পছন্দসই গুটি কয়েকজন ভেন্ডরই বাগিয়ে নিচ্ছে সিংহভাগ কাজ।

গোপন ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে শক্তিশালী এক সিন্ডিকেট। প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ যোগসাজশে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকের প্রোকিউরমেন্ট ও ব্র্যান্ডিং বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে একটি বেনামী ফার্ম পরিচালিত হচ্ছে, যা আড়ালে থেকে ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে। কাজের চাহিদা তৈরি, কোটেশন আহ্বান, অনুমোদন, ওয়ার্ক অর্ডার থেকে শুরু করে বিল পাসের প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট এই চক্রটিই একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

জবাবহীন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা
এসব অস্বাভাবিক দর নির্ধারণ, বাজারদর যাচাইয়ের অভাব, ভেন্ডর নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ অডিট সংক্রান্ত একাধিক সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তুলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হলেও ব্র্যাক ব্যাংকের পাবলিক রিলেশনস ও ব্র্যান্ডিং বিভাগ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিক খুদেবার্তা ও লিখিত চিঠির জবাবে কর্তৃপক্ষের এই নীরবতা অনিয়মের অভিযোগকে আরও জোরদার করে।

আরো পড়ুন : ব্র্যাক ব্যাংকে রাজুর দাপট, প্রশ্নে ব্র্যান্ডিং!

ব্যাংক খাতের সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, আমানতকারীদের অর্থে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে কৃত্রিমভাবে দ্বিগুণ দর অনুমোদন করা এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ বণ্টন প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের চরম লঙ্ঘন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে অবিলম্বে এ খাতের নিরপেক্ষ ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা জরুরি।

​(ব্র্যাক ব্যাংকের ব্র্যান্ডিং খাতের এই হরিলুট সংক্রান্ত অনুসন্ধানের এটিই শেষ নয়। আগামী পর্বে থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট তদারকি বিভাগের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্তৃপক্ষের মতামতসহ বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন। তবে এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক বা সংশ্লিষ্টদের কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হবে।)