ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে ভাষণে দেশ পুনর্গঠনে ‘থ্রি-আর’ কৌশল তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 23

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত শাসনব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দেশকে পুনর্নির্মাণে ‘৩-আর’ (থ্রি-আর) কৌশল বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৬টায় জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি সরকারের এ কৌশল তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। বিগত আমলের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো সংকট থেকে মুক্ত হয়ে দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে।

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ পুনর্গঠনে বর্তমান সরকার উদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণ (রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন)—এ তিন ‘আর’ কৌশল অনুসরণ করছে। বক্তব্যে তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তার আহ্বান

তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর ভূমিকা না নিলে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আরও গভীর মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তিনি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভাষণে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, নারী শিক্ষা, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেন। একই সঙ্গে সবার বসবাসের উপযোগী ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ চার দশক পর এ অধিবেশনে সভাপতির আসনে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন তারেক রহমান। বিশ্বসংস্থার এ অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে তিনি তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দিয়েছিলেন।

ভাষণে বাবা-মায়ের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে কথা বলেছিলেন। একইভাবে আজ আমিও দেশের স্বার্থে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব গঠনের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।”

ভাষণের শুরুতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ায় দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জাতিসংঘে ভাষণে দেশ পুনর্গঠনে ‘থ্রি-আর’ কৌশল তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত শাসনব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দেশকে পুনর্নির্মাণে ‘৩-আর’ (থ্রি-আর) কৌশল বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৬টায় জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি সরকারের এ কৌশল তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। বিগত আমলের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো সংকট থেকে মুক্ত হয়ে দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে।

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ পুনর্গঠনে বর্তমান সরকার উদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণ (রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন)—এ তিন ‘আর’ কৌশল অনুসরণ করছে। বক্তব্যে তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তার আহ্বান

তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর ভূমিকা না নিলে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আরও গভীর মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তিনি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভাষণে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, নারী শিক্ষা, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেন। একই সঙ্গে সবার বসবাসের উপযোগী ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ চার দশক পর এ অধিবেশনে সভাপতির আসনে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন তারেক রহমান। বিশ্বসংস্থার এ অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে তিনি তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দিয়েছিলেন।

ভাষণে বাবা-মায়ের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে কথা বলেছিলেন। একইভাবে আজ আমিও দেশের স্বার্থে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব গঠনের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।”

ভাষণের শুরুতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ায় দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।