রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের ৩ প্রস্তাব
- আপডেট সময় : ০১:১৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল মানবিক উদ্বেগের বিষয় নয়, এটি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে হাই লেভেল ডিবেট শুরুর আগে আইসি’র (OIC) এক সভায় বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে যে, রোহিঙ্গাদের এই দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির ফলে অনিয়মিত সমুদ্রপথে চলাচল, মানব ও মাদক পাচার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশের পক্ষে ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নজরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ বরাবরই জোর দিয়ে আসছে যে, এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ওআইসি’র ‘দশ-বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩৫’-এ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা।
টেকসই পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্ব ও বোঝা ভাগ করে নেয়ার প্রক্রিয়াটি আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফান্ড সংকটে বরাদ্দ কমেছে ২৬ শতাংশ। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীসহ মোট ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের সহায়তার লক্ষ্যে ‘যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা ২০২৬’ (Joint Response Plan 2026)-এর জন্য ৭১ কোটি ৫০ লাখ (৭১০.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা তহবিলের তীব্র সীমাবদ্ধতার কারণে এই প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ ২০২৫ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে, এর অর্থ এই নয় যে- প্রয়োজনের পরিমাণ কমেছে; বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বাস্তবসম্মতভাবে যে পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে, এটি তারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশের ৩ দফা অগ্রাধিকার প্রস্তাবসংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ফোরামে ওআইসি’র নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বাংলাদেশ তিনটি তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিয়েছে।
মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ: দ্রুত ক্ষমা প্রার্থনা ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে জাতিসংঘ ও আসিয়ান’র (ASEAN) সঙ্গে সমন্বয় করে মিয়ানমারের ওপর ঐক্যবদ্ধ ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখা।
জরুরি অর্থায়ন নিশ্চিত করা: ‘যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা ২০২৬’-এর জন্য দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীর প্রতি সহায়তা জোরদার করা।
আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহিতা: আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) চলমান কার্যক্রমে ওআইসি’র সমর্থন অব্যাহত রেখে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, যাতে সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
বাংলাদেশ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, প্রায় এক দশক ধরে চলমান এই সংকটকে কোনোভাবেই ‘স্বাভাবিক বিষয়’ হিসেবে মেনে নেয়ার সুযোগ নেই। মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে ক্লান্তি দেখা যাচ্ছে, তা যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদাসীনতায় পর্যবসিত না হয়।
























