রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত
গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি ছুটবে মেট্রোরেল
- আপডেট সময় : ০৬:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 23
রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে যাচ্ছে। ঢাকা মহানগরীতে পাস করা হয়েছে আরেকটি মেট্রোরেল নির্মাণের প্রকল্প। ভবিষ্যতে গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত ছুটবে এই মেট্রোরেল। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্প পাস করা হয়।
একইসঙ্গে আরো দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পে দ্বিতীয়বারের মতো খরচ বাড়িয়ে সংশোধন করা হচ্ছে। তিন প্রকল্পে মোট খরচ হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। ঢাকার ট্রাফিক জট নিরসন ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে এই বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে একনেক সভায় তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পসহ ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মেট্রোরেলের তিনটি মেগা প্রকল্পসহ ১২ প্রকল্পে ব্যয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। পরে শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) একনেক নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি জানান, গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত নতুন একটি মেট্রোলাইন হবে। এটি হলো ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫), সাউদার্ন রুট। নতুন এই প্রকল্পের খরচ হবে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।
একনেক সভায় আরও দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের খরচ বাড়ানো হয়েছে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। এই দুটি প্রকল্পে দ্বিতীয়বারের মতো খরচ বাড়িয়ে সংশোধন করা হয়।
এখন ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের লাইন-৫-এর নর্দান রুটের খরচ দাঁড়াল ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-১) ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে অনুমোদিত তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। মেট্রোরেলের তিনটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় এবং নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে গঠিত এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্প।
রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি বেশ দ্রুত আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।
এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা যৌথ ঋণ সহায়তা হিসেবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ইডিসিএফ।
এই লাইনে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার থাকবে আন্ডারগ্রাউন্ড এবং বাকি অংশ হবে উড়াল পথ। গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার এবং তেজগাঁও হয়ে হাতিরঝিলের তলদেশ দিয়ে আফতাবনগর পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ টানেল মাটির ১৬ থেকে ৩৮ মিটার গভীরে নির্মাণ করা হবে, যা নগরবাসীর যাতায়াতে যুক্ত করবে এক আধুনিক রূপকথা।
























