ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 12

সৌদি আরবে বিমানবন্দরগুলোতে চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। এখন পর্যন্ত ১৪৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী।

রোববার (২৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান জানায়, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। এসব ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সংশোধিত সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় গত ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা–জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমও আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, ঢাকা-মদিনা রুটে নিয়মিতভাবে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালন কার্যক্রম সীমিত থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির আকাশপথে যোগাযোগে অস্থিরতা বাড়ছে। একের পর এক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী, ওমরাহযাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রী।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে ৬৭টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৮টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়ার ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্টএয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার আটটি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালন সীমাবদ্ধতার প্রভাব সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটেও পড়েছে। অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদেরও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেককে ভ্রমণসূচি পরিবর্তন, টিকিট পুনর্র্নিধারণ কিংবা বিকল্প ফ্লাইট খুঁজতে হতে পারে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের কতজন বিকল্প ফ্লাইট পেয়েছেন, কতজন টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করেছেন কিংবা কতজন অর্থ ফেরত পেয়েছেন, তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত

আপডেট সময় : ০৬:১৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে বিমানবন্দরগুলোতে চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। এখন পর্যন্ত ১৪৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী।

রোববার (২৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান জানায়, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। এসব ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সংশোধিত সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় গত ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা–জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমও আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, ঢাকা-মদিনা রুটে নিয়মিতভাবে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালন কার্যক্রম সীমিত থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির আকাশপথে যোগাযোগে অস্থিরতা বাড়ছে। একের পর এক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী, ওমরাহযাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রী।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে ৬৭টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৮টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়ার ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্টএয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার আটটি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালন সীমাবদ্ধতার প্রভাব সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটেও পড়েছে। অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদেরও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেককে ভ্রমণসূচি পরিবর্তন, টিকিট পুনর্র্নিধারণ কিংবা বিকল্প ফ্লাইট খুঁজতে হতে পারে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের কতজন বিকল্প ফ্লাইট পেয়েছেন, কতজন টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করেছেন কিংবা কতজন অর্থ ফেরত পেয়েছেন, তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।