ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচারের অভাবেই কি প্রাণ গেল সাংবাদিক আলিফের?

কুপিয়ে ছাড়, চাঁদাবাজিতে পার: দুর্গাপুর কি অপরাধীদের রাজ্য?

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 25

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিচারহীনতায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্র। প্রশ্ন উঠেছে—আইনের তোয়াক্কা না করে এরা কি তবে দুর্গাপুরকে অপরাধের রাজ্যে পরিণত করেছে?

প্রায় এক বছর আগে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হলেও মূল ঘাতকরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই এলাকায় একের পর এক নির্মম ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে এই চক্র।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ১০ নভেম্বর তেরিবাজার নৌঘাটে সন্ত্রাসী ইমন ও সৌরভসহ তাদের গ্যাং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক আলিফের ওপর হামলা চালায়। চালক মালেক ও স্থানীয় সাংবাদিক শাহজাহান শেখের সহায়তায় সেদিন তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। পরে আলিফ বাদী হয়ে মামলা করলেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আসামিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ।

​আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। উকিলপাড়ার একটি হোটেলের মালিকের কাছে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। প্রাণভয়ে হোটেল মালিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। পরে খোদ দুর্গাপুর থানার পুলিশ বাদী হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা মেহেদী হাসান ওরফে সাহস, ইমন ও সৌরভসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯ সালের আলোচিত কাওসার হত্যা মামলার আসামি এই সাহসের ছত্রচ্ছায়াতেই ইমন-সৌরভরা এলাকাকে অপরাধের আখড়া বানিয়ে তুলেছে। সীমান্তঘেঁষা এই এলাকায় গত ১১ বছরে ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৪টিই চলতি বছরের। সাংবাদিক আলিফ তার ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পেজে এসব অপরাধের কথা তুলে ধরায় তার ওপর বারবার আক্রোশ নেমে আসে।

​সম্প্রতি সাংবাদিক আলিফকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে কোন গ্রুপ বা চক্র ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে সচেতন মহলের মতে, প্রথমবার কুপিয়ে জখমের পর যদি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতো, তবে আজ এমন আতঙ্কের রাজত্ব তৈরি হতো না।

​দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, “সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে মূল ঘাতক ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।”

​তবে দুর্গাপুরবাসীর মনে এখন একটাই আতঙ্ক—চিহ্নিত অপরাধীরা বারবার ছাড় পেয়ে গেলে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার দায়িত্ব নেবে কে?

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিচারের অভাবেই কি প্রাণ গেল সাংবাদিক আলিফের?

কুপিয়ে ছাড়, চাঁদাবাজিতে পার: দুর্গাপুর কি অপরাধীদের রাজ্য?

আপডেট সময় : ১১:৪৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিচারহীনতায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্র। প্রশ্ন উঠেছে—আইনের তোয়াক্কা না করে এরা কি তবে দুর্গাপুরকে অপরাধের রাজ্যে পরিণত করেছে?

প্রায় এক বছর আগে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হলেও মূল ঘাতকরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই এলাকায় একের পর এক নির্মম ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে এই চক্র।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ১০ নভেম্বর তেরিবাজার নৌঘাটে সন্ত্রাসী ইমন ও সৌরভসহ তাদের গ্যাং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক আলিফের ওপর হামলা চালায়। চালক মালেক ও স্থানীয় সাংবাদিক শাহজাহান শেখের সহায়তায় সেদিন তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। পরে আলিফ বাদী হয়ে মামলা করলেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আসামিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ।

​আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। উকিলপাড়ার একটি হোটেলের মালিকের কাছে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। প্রাণভয়ে হোটেল মালিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। পরে খোদ দুর্গাপুর থানার পুলিশ বাদী হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা মেহেদী হাসান ওরফে সাহস, ইমন ও সৌরভসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯ সালের আলোচিত কাওসার হত্যা মামলার আসামি এই সাহসের ছত্রচ্ছায়াতেই ইমন-সৌরভরা এলাকাকে অপরাধের আখড়া বানিয়ে তুলেছে। সীমান্তঘেঁষা এই এলাকায় গত ১১ বছরে ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৪টিই চলতি বছরের। সাংবাদিক আলিফ তার ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পেজে এসব অপরাধের কথা তুলে ধরায় তার ওপর বারবার আক্রোশ নেমে আসে।

​সম্প্রতি সাংবাদিক আলিফকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে কোন গ্রুপ বা চক্র ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে সচেতন মহলের মতে, প্রথমবার কুপিয়ে জখমের পর যদি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতো, তবে আজ এমন আতঙ্কের রাজত্ব তৈরি হতো না।

​দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, “সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে মূল ঘাতক ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।”

​তবে দুর্গাপুরবাসীর মনে এখন একটাই আতঙ্ক—চিহ্নিত অপরাধীরা বারবার ছাড় পেয়ে গেলে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার দায়িত্ব নেবে কে?