কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে প্রাণহানি বেড়ে ১০
- আপডেট সময় : ০৪:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 14
কক্সবাজারের ইনানীতে সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উখিয়া উপজেলার পাটুয়ারটেক সৈকতের ওই একটি রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিহতরা সবাই পর্যটক ছিলেন। নিহতদের মধ্যে এক পরিবারের ছয় রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুনে নিহত ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জন হলেন, ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।
এ ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
আহত ৬ জনকে প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদেরকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপর একজন পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দগ্ধ পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিস জানায়, কক্সবাজারের ইনানী বিচের টুপ টুপ রিসোর্টে সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ১৮ কি.মি.। পরে ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। উখিয়া ফায়ার স্টেশনের ২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে।
প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত শটসার্কিট কিংবা চুলার আগুন থেকে ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ারসার্ভিস। তারা জানান, কাঠ ও বাঁশের তৈরি রিসোর্টটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছয়-সাতটি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা পর্যটকেরা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন, কেউ কেউ ঘুমিয়ে ছিলেন। রিসোর্টে ১৮ জন অতিথি ছিলেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ও পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে(এডিএম) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, পর্যটকদের বিস্তারিত তথ্য জানতে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, হাসপাতালে চারজন অগ্নিদগ্ধকে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী। সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।




























