নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
- আপডেট সময় : ১০:০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 13
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় দোকানে বসে থাকা এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে কলমাকান্দা পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের তেলনজিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাংবাদিকের নাম লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।
এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা লুৎফুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তার এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে লুৎফুজ্জামান তেলনজিয়া বাজারে একটি দোকানে চা খেয়ে বের হচ্ছিলেন। এ সময় দুই যুবক এসে তাকে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ওই যুবকরা দৌড়ে কিছুটা দূরে রাখা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। পরে লুৎফুজ্জামানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তেলনজিয়া বাজারের প্রত্যক্ষদর্শী চা-দোকানি রবিন রাংছা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, লুৎফুজ্জামান চা খেয়ে দোকান থেকে বের হয়ে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি তখন দোকানে চায়ের কাপ পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় দুই যুবক এসে প্রথমে সিগারেট চায়। এরপর হঠাৎ লুৎফুজ্জামানকে কয়েকটি গুলি করে। আশপাশের মানুষ ছুটে এলে ওই দুজন মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, ওই সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
সাংবাদিক হত্যার খবর পেয়ে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তিনি রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
লুৎফুজ্জামান প্রায় ছয় বছর আগে তেলনজিয়া গ্রামের মেয়ে আনন্দিতা সংমাকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির চার বছর বয়সী এক মেয়ে ও দেড় বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।




























