আবুধাবি টেস্টে শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট টাইগাররা
- আপডেট সময় : ০৯:২৭:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 14
মুশফিকের ক্ষোভ, শান্তর মাথায় হাত, লিটনের বিরক্তি— শেষ দুই সেশনে বারবার দেখা গেছে বাংলাদেশের হতাশার ছবি। কখনো ক্যাচ ফসকে গেছে, কখনো রানআউটের সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে, কখনো স্ট্যাম্পিং মিসে অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের চোখে-মুখে। এমনকি বল স্ট্যাম্পে লাগার পরও বেল না পড়ার দুর্ভাগ্যও সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের। একের পর এক সুযোগ পেয়েও আফগানিস্তানের শেষ উইকেট দুটি তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে শান্তদের।
মঙ্গলবার আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে ১৪২ ওভার ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে আফগানিস্তান। জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল তারা। শেষ দিনে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৪৭ রান দরকার ছিল আফগানদের। সেই লক্ষ্য তাড়া করার চেয়ে উইকেট আগলে রেখে ড্র নিশ্চিত করাই ছিল তাদের প্রধান কাজ। সেদিকউল্লাহ আতালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও শেষ দিকের ব্যাটারদের প্রতিরোধে সেই কাজটাই সফলভাবে করেছে তারা।
দিনের শুরুতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। কিন্তু আফগানদের প্রতিরোধ ভাঙতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়েছে বোলাররা। সেদিকউল্লাহ আতাল এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেছেন ৩৩২ বলে ১১১ রানের ইনিংস। টেস্ট ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। হাশমতউল্লাহ শহীদি, ইকরাম আলী খিল, কায়েস আহমেদ, ইয়ামিন আহমাদজাইরা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেটে টিকে থেকে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন।
প্রথম সেশনে ইকরামকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দেন ইবাদত হোসেন। কিন্তু আতাল ও ইকরামের জুটি ভাঙার পরও দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ইসমত আলম ৪ রান করে ফিরলেও আতাল নিজের লড়াই চালিয়ে যান। পরে হাশমতউল্লাহ শহীদিকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে কিছুটা আশার আলো দেখান মিরাজ। কিন্তু আতালকে ফেরানোর আগ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
তৃতীয় সেশনে আতালকে তাইজুল ইসলাম ফেরালে জয়ের আশা আরো জোরালো হয়। এরপরও শেষ উইকেটগুলো তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। পরপর দুই বলে দুটি রানআউটের সুযোগ নষ্ট হয়। পরে কায়েস আহমেদের সহজ ক্যাচও ছাড়েন হাসান মাহমুদ। শেষ দিকে ইয়ামিন আহমদজাইকে ফিরিয়ে মিরাজ কিছুটা স্বস্তি দিলেও ততক্ষণে সময় প্রায় শেষ। বাকি ৫ মিনিটে সাইট স্ক্রিনের সমস্যায় ব্যাটিং থামিয়ে সরে দাঁড়ান জিয়া উর রহমান। স্ক্রিন বদলাতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুশফিকুর রহিম। শেষ পর্যন্ত ১৪২ ওভার ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের জয় আর পাওয়া হয়নি।
এর আগে টস জিতে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে বাংলাদেশ তোলে ৩৪৬ রান। তানজিদ হাসান ৮৩ ও সাদমান ইসলাম ৬৭ রান করেন। জবাবে আফগানিস্তান ২৪০ রানে অলআউট হলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ নেন ৫ উইকেট, হ্যাটট্রিকও করেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন দাসের ১০২, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮২, মুশফিকুর রহিমের ৮১ ও মিরাজের অপরাজিত ৫২ রানে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান। চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে শেষ দিনের লড়াই শুরু করে আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত তাদের দৃঢ়তায় ড্র হয় টেস্ট, আর বাংলাদেশের জন্য থেকে যায় হাতছাড়া জয়ের আক্ষেপ।




























