ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন’

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 32

‘আপনারা একটা কাজ করবেন এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে এযাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে।’

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া নামে এক চিকিৎসক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এমন একটি স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নরমাল ডেলিভারি করানোর সময় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া নিজের ফেসবুক পেজে ওই পোস্ট দেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের খামারপুষ্কুরুনী গ্রামের ওমানপ্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী নাজমা আক্তারের প্রসবব্যথা উঠলে তাকে চৌদ্দগ্রামের আল নুর নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে বিকেলে নাজমা আক্তার কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেও নবজাতকের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে প্রসূতি নাজমাকে কুমিল্লায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তার স্বামী।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া দাবি করেন, নাজমা তার কাছে আসার পর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট ভালো ছিল। প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পরও একপর্যায়ে রোগীকে কুমিল্লায় রেফার করা হয়। যে নবজাতকের তিনি নিজে ডেলিভারি করাতে পারেননি, তার মাথায় তিনি কীভাবে আঘাত করবেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পোস্টে চিকিৎসক আরও দাবি করেন, শিশুটি তার হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে জন্ম নেয়নি। পাশাপাশি রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে পিটোসিন দেওয়ার অভিযোগেরও প্রতিবাদ করেন তিনি।

তবে পোস্টের একপর্যায়ে তিনি লেখেন, ‘ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে—এসব সিদ্ধান্ত সাংবাদিকের কাছ থেকে নিয়ে তাকে দিয়ে চিকিৎসা করাবেন।’ তার এই মন্তব্য নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী নাজমা আক্তারের স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিয়ের পর প্রথম সন্তান জন্ম নেওয়া নিয়ে তারা খুব আনন্দিত ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকের অবহেলার কারণে তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তার স্ত্রী এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন। পুরো পরিবার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ী চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া বলেন, আমি নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেছি। রোগীর অবস্থা ভালো না থাকায় দ্রুত তাকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নবজাতকের মৃত্যু ও মাথায় আঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, ‘এটা কোনো ডাক্তারের ভাষা হতে পারে না। চিকিৎসক কেন এমন আচরণ করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য কেন করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন’

আপডেট সময় : ০১:১৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

‘আপনারা একটা কাজ করবেন এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে এযাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে।’

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া নামে এক চিকিৎসক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এমন একটি স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নরমাল ডেলিভারি করানোর সময় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া নিজের ফেসবুক পেজে ওই পোস্ট দেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের খামারপুষ্কুরুনী গ্রামের ওমানপ্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী নাজমা আক্তারের প্রসবব্যথা উঠলে তাকে চৌদ্দগ্রামের আল নুর নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে বিকেলে নাজমা আক্তার কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেও নবজাতকের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে প্রসূতি নাজমাকে কুমিল্লায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তার স্বামী।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া দাবি করেন, নাজমা তার কাছে আসার পর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট ভালো ছিল। প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পরও একপর্যায়ে রোগীকে কুমিল্লায় রেফার করা হয়। যে নবজাতকের তিনি নিজে ডেলিভারি করাতে পারেননি, তার মাথায় তিনি কীভাবে আঘাত করবেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পোস্টে চিকিৎসক আরও দাবি করেন, শিশুটি তার হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে জন্ম নেয়নি। পাশাপাশি রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে পিটোসিন দেওয়ার অভিযোগেরও প্রতিবাদ করেন তিনি।

তবে পোস্টের একপর্যায়ে তিনি লেখেন, ‘ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে—এসব সিদ্ধান্ত সাংবাদিকের কাছ থেকে নিয়ে তাকে দিয়ে চিকিৎসা করাবেন।’ তার এই মন্তব্য নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী নাজমা আক্তারের স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিয়ের পর প্রথম সন্তান জন্ম নেওয়া নিয়ে তারা খুব আনন্দিত ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকের অবহেলার কারণে তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তার স্ত্রী এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন। পুরো পরিবার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ী চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া বলেন, আমি নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেছি। রোগীর অবস্থা ভালো না থাকায় দ্রুত তাকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নবজাতকের মৃত্যু ও মাথায় আঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, ‘এটা কোনো ডাক্তারের ভাষা হতে পারে না। চিকিৎসক কেন এমন আচরণ করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য কেন করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’