ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহবান যুক্তরাষ্ট্রের

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 19

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের দরজা খোলা আছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত আল-মনিটর লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আল-মনিটরের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু পারাসিলিতি ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে ওয়াল্টজ বলেন, ইরান চাইলেই আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে পারে। তাদের আসার জন্য দরজা খোলা আছে। তবে নতুন করে আলোচনায় বসতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে এমন প্রতিবেদনকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেন ওয়াল্টজ।

তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের পর ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। দেশটি আরও দুর্বল হচ্ছে। এর পেছনে অর্থনৈতিক চাপ ও ইরানি মুদ্রার দরপতনকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ওয়াল্টজ বলেন, তারা আলোচনায় ফিরে আসবে। আমি আশা করি, সেটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবেই হবে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ওয়াল্টজ। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলকে নতুন ধরনের বহুপক্ষীয়তা হিসেবে বর্ণনা করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এগিয়ে নেয়া যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি কারিগরি প্রশাসন, গাজা পুনর্গঠন এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় আছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী কয়েকটি সম্ভাব্য সদস্য রয়েছে বলেও দাবি করেন ওয়াল্টজ। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল ও মরক্কোর রাষ্ট্রদূত বিনিময়ের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান তিনি।

ইরাক প্রসঙ্গে ওয়াল্টজ প্রধানমন্ত্রী আলী আল জায়েদির প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। এমন দাবি করে তিনি বলেন, ইরানের দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় অবস্থান এসব মিলিশিয়ার প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহবান যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় : ১০:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের দরজা খোলা আছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত আল-মনিটর লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আল-মনিটরের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু পারাসিলিতি ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে ওয়াল্টজ বলেন, ইরান চাইলেই আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে পারে। তাদের আসার জন্য দরজা খোলা আছে। তবে নতুন করে আলোচনায় বসতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে এমন প্রতিবেদনকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেন ওয়াল্টজ।

তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের পর ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। দেশটি আরও দুর্বল হচ্ছে। এর পেছনে অর্থনৈতিক চাপ ও ইরানি মুদ্রার দরপতনকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ওয়াল্টজ বলেন, তারা আলোচনায় ফিরে আসবে। আমি আশা করি, সেটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবেই হবে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ওয়াল্টজ। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলকে নতুন ধরনের বহুপক্ষীয়তা হিসেবে বর্ণনা করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এগিয়ে নেয়া যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি কারিগরি প্রশাসন, গাজা পুনর্গঠন এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় আছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী কয়েকটি সম্ভাব্য সদস্য রয়েছে বলেও দাবি করেন ওয়াল্টজ। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল ও মরক্কোর রাষ্ট্রদূত বিনিময়ের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান তিনি।

ইরাক প্রসঙ্গে ওয়াল্টজ প্রধানমন্ত্রী আলী আল জায়েদির প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। এমন দাবি করে তিনি বলেন, ইরানের দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় অবস্থান এসব মিলিশিয়ার প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।