ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের তথ্য পেয়েছে জাতিসংঘ
- আপডেট সময় : ১০:১১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 24
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো দুটি হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইরানে জাতিসংঘের সত্যতা যাচাই মিশনের বরাতে উঠে এসেছে তথ্যটি। ওই দুটির একটি হলো– স্কুলে হামলা, আর দ্বিতীয়টি ক্রীড়া প্রাঙ্গণে হামলা। পাশাপাশি ইরানের কর্তৃপক্ষ নিজ দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে বলেও উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের মিশন।
তদন্তে উঠে আসা তথ্যগুলো প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করেছে ইনডিপেনডেন্ট ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরান। প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
গোটা তদন্তটি করা হয়েছে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে মার্কিন কর্মকাণ্ড এবং যুদ্ধের আগে গত ডিসেম্বরে সংঘটিত বিক্ষোভে ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়া কী ছিল– তা জানতে। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে ইরান ও জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী মিশন কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সশস্ত্র সংঘাতের নিয়ম মেনেই তারা সামরিক অভিযান পরিচালনা করছেন। অন্যদিকে ইরানও বারবার পদ্ধতিগত অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিনাব শহরের শাজারেহ তায়েবেহ প্রাইমারি স্কুলে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দায়ী এমন যুক্তিসংগত কারণ পেয়েছে তারা। ইরানের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুসারে, সেখানে ১৫০ জনেরও বেশি নিহত হয়, যার মধ্যে প্রায় ১২০ জন স্কুল শিক্ষার্থী।
জাতিসংঘ মিশনের দেওয়া তথ্যানুসারে, হামলাটি নির্বিচার আক্রমণের কাতারে পড়ছে। এতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও বেসামরিক স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র তথ্য যথেষ্ট যাচাই করেনি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার সেখানে রয়েছেন– এমন তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী সেখানে আঘাত হানে। তদন্তকারীরা বলেছেন, হামলার লক্ষ্যবস্তুর তথ্য হালনাগাদ না করা ও অবকাঠামোটির সামরিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি অবহেলার চেয়েও বড় কিছু।
























