ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের গডফাদার বিএনপির হলেও ধরতে যেন হাত না কাঁপে: আইনমন্ত্রী

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 17

মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মাদক কারবারের সঙ্গে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী কোনো রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততা থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক কারবারের সঙ্গে বা মাদকের গডফাদার হিসেবে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী কোনো নেতার সম্পৃক্ততা থাকলে, তাকে ধরতেও যেন আপনাদের হাত না কাঁপে।’

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, এমনকি বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতা মাদক কারবারিকে পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখাতে হবে। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং এখানে কোনো পক্ষপাত থাকবে না।

নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি একটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পেয়ে তিনি পুলিশকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে গ্রেপ্তার ওই নেতার মাদক সেবনের পরীক্ষায় ফলাফল পজিটিভ আসে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ওই ব্যক্তি তার নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন। তবে একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রথম শর্ত নৈতিকভাবে স্বচ্ছ থাকা। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলবেন এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মী নিজেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যত বড় নেতাই হোক, মাদকের সঙ্গে জড়িত সবার ক্ষেত্রেই জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।’

এ সময় আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের বিষয়। তবে ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করে জামিন নেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, ক্রসফায়ার এবং মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে চার হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম ও ক্রসফায়ারের শিকার করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রায় ৭০০ বিএনপি নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় বাগেরহাটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী সমিতির নেতা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মাদকের গডফাদার বিএনপির হলেও ধরতে যেন হাত না কাঁপে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মাদক কারবারের সঙ্গে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী কোনো রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততা থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক কারবারের সঙ্গে বা মাদকের গডফাদার হিসেবে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী কোনো নেতার সম্পৃক্ততা থাকলে, তাকে ধরতেও যেন আপনাদের হাত না কাঁপে।’

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, এমনকি বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতা মাদক কারবারিকে পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখাতে হবে। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং এখানে কোনো পক্ষপাত থাকবে না।

নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি একটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পেয়ে তিনি পুলিশকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে গ্রেপ্তার ওই নেতার মাদক সেবনের পরীক্ষায় ফলাফল পজিটিভ আসে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ওই ব্যক্তি তার নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন। তবে একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রথম শর্ত নৈতিকভাবে স্বচ্ছ থাকা। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলবেন এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মী নিজেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যত বড় নেতাই হোক, মাদকের সঙ্গে জড়িত সবার ক্ষেত্রেই জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।’

এ সময় আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের বিষয়। তবে ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করে জামিন নেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, ক্রসফায়ার এবং মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে চার হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম ও ক্রসফায়ারের শিকার করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রায় ৭০০ বিএনপি নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় বাগেরহাটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী সমিতির নেতা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।