অনুমোদনহীন দুই ভবনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ!
বিজি প্রেসের সাবেক ড্রাইভার শফির বিপুল সম্পদের উৎস কী?
- আপডেট সময় : ০৯:০৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 89
একসময় ঢাকা বিজি প্রেসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন শফি। পেশায় ছিলেন ড্রাইভার। সেই সময় চাকরি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ না থাকলেও বর্তমানে রাজধানী ঢাকা থেকে পাবনা পর্যন্ত তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। কীভাবে এই সম্পদের বিস্তার—সেখানেই এখন বড় প্রশ্ন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের দক্ষিণ বেগুনবাড়ির ৪/৪ ও ৭/এ/২ নম্বরে রয়েছে শফির দুটি আটতলা ভবন। অভিযোগ রয়েছে, ভবন দুটির ছয়তলা পর্যন্ত রাজউকের অনুমোদন থাকলেও পরবর্তী দুই তলা নির্মাণ করা হয়েছে অনুমোদন ছাড়াই। শুধু তাই নয়, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়নি রাস্তার পর্যাপ্ত জায়গা।
তবে ভবনের চেয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে গ্যাস সংযোগ নিয়ে। অভিযোগ, দুই ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটেই রয়েছে গ্যাস সংযোগ। অথচ নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পর এসব ভবনে কীভাবে সংযোগ এলো? তিতাসের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি জানার পরও কীভাবে সংযোগগুলো সচল রয়েছে—তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
শফির সম্পদের বিস্তার শুধু দক্ষিণ বেগুনবাড়িতে সীমাবদ্ধ নয়। কারওয়ান বাজারের মার্কেটের ভেতরে রয়েছে দোকান, তেজগাঁও কলোনি বাজারে রয়েছে ক্রয়সূত্রে দোকানের মালিকানা এবং উত্তর বেগুনবাড়িতেও রয়েছে কেনা সম্পদে অংশ।
গাড়ির ক্ষেত্রেও রয়েছে চমকপ্রদ তথ্য। সাবেক সরকারি ড্রাইভার শফির একাধিক পাজেরো গাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি একই গাড়ির কাগজপত্র ব্যবহার করে একাধিক গাড়ি চালানোর অভিযোগও রয়েছে। গাড়িগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও কাগজপত্র যাচাই হলে এ অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।
এরপর সম্পদের বিস্তার দেখা যায় পাবনাতেও। পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রয়েছে ছয়তলা ভবন, স্থানীয় মার্কেটে রয়েছে দোকান, পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর দেওয়া একাধিক প্লটসহ আরও সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে বিজি প্রেসের আশপাশের সরকারি জায়গা দখল করে রাখার অভিযোগও রয়েছে শফির বিরুদ্ধে। চাকরি না থাকলেও কীভাবে সেই দখলদারিত্ব বহাল রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বক্তব্য নিতে গিয়ে ভিন্ন পরিস্থিতি
অভিযোগগুলোর বিষয়ে মোসাদ্দেক হোসেন শফির বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বক্তব্য দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় নেন। শনিবার (১২সেপ্টেম্বর) সাক্ষাৎ করে বক্তব্য দেওয়ার কথা জানান তিনি।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এক সপ্তাহ অপেক্ষা করার পর শনিবার দুপুরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রায় এক ঘণ্টা পর তার কর্মচারীদের মাধ্যমে প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। একাধিক কর্মচারী ফোন করে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবেদককে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও শফি নিজে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেননি।
পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদকের কাছে সংশয় তৈরি হলে প্রস্তাবিত স্থানগুলোতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযুক্ত মোসাদ্দেক হোসেন শফির সরাসরি বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
একজন সাবেক চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী ও ড্রাইভারের আয় থেকে এত বিস্তৃত সম্পদ কীভাবে তৈরি হলো—সম্পদের অর্থের উৎসই বা কী?
দক্ষিণ বেগুনবাড়ির দুই ভবনের অনুমোদনহীন তলা, প্রতিটি ফ্ল্যাটে গ্যাস সংযোগ, একাধিক পাজেরো, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দোকান-সম্পদ এবং পাবনায় ছয়তলা ভবন—সবকিছুর পেছনে কি রয়েছে অদৃশ্য কোনো সম্পদ সাম্রাজ্যের গল্প?
অনুসন্ধান চলবে…
পরবর্তী পর্বে: বিজি প্রেস, রাজউক ও তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরা হবে।























