ব্রিকস যৌথ ঘোষণায় সম্মতি বিশ্বনেতাদের, একতরফা যুদ্ধের নিন্দা
- আপডেট সময় : ০৭:১৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 14
ভারতের নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হয়েছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের এবারের সম্মেলন। সম্মেলন শুরুর ঠিক আগে আগে একটি যৌথ ঘোষণায় একমত প্রকাশ করেছেন ব্রিকস নেতারা। বৈশ্বিক পরিসরে জোটটির প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য ছাড়াও ঘোষণাপত্রে কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানো হয়। সংঘাত নিরসনে ‘সংলাপ ও কূটনীতিকে’ সামনে রাখার কথাও বলা হয়।
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও আরব আমিরাত। এবার ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে ভারত।
নয়াদিল্লিতে এবারের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ অন্যরা।
এই সম্মেলন এমন সময়ে হচ্ছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস ধরে চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ। আর সংঘাত ঘিরে দুই সদস্য ইরান ও আমিরাতের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভাজন। চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে আরব আমিরাত। যুদ্ধের সময় আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যৌথ ঘোষণায় কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ইরান ও আরব আমিরাতের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষপর্যন্ত নেতারা যৌথ ঘোষণায় একমত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় সংঘাতকে কেন্দ্র করে ব্রিকসের সদস্য ইরান ও আরব আমিরাতের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভাজন দূর করার চেষ্টা চলছে এবারের সম্মেলনে।
সম্মেলনের আয়োজক ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথ ঘোষণার বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। তবে পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা আগে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে এমন ভাষা খুঁজে বের করাই ব্রিকসের বড় পরীক্ষা হবে, যা আবুধাবি ও তেহরান দুই পক্ষই মেনে নিতে পারে। এমনটি সম্ভব হলে যৌথ ঘোষণার পথ পরিষ্কার হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের যৌথ বিবৃতি বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। তবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর নীতির বিরুদ্ধে উদীয়মান দেশগুলোর জোট হিসেবে ব্রিকসের ঐক্য প্রদর্শন করবে।
গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হয়েছিল। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতপার্থক্যের কারণে ওই বৈঠক থেকে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন প্রণয়নে প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়ে নিজেদের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়াতে চায় ব্রিকস। জোটটির কয়েকটি সদস্য মনে করে, এসব প্রতিষ্ঠান পশ্চিমা শক্তির প্রভাবাধীন।
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নয়াদিল্লি তাই কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রভাবাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ২০০৯ সালে ব্রিকস প্রতিষ্ঠা করা হয়। ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের ৪০ শতাংশের বেশি। বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশও এই দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে।
























