হামে প্রাণহানি বেড়ে ১০০৯
- আপডেট সময় : ০৫:০১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 14
হামের উপসর্গে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও সাতজন মারা গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৯০৯ জন। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০০ জনের। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯। হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৫।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ২৯। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ হাজার ৯৩৩ রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৫ রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। আর হামের উপসর্গে যে সাতজন মারা গেছে, তাদের তিনজন ঢাকা বিভাগের। একজন করে সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের।
যে হাম ভুলে যাওয়া রোগে পরিণত হয়েছিল, তা হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলাকে এর পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা।
বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলা হাম পরিস্থিতির অবনতির জন্য প্রাথমিকভাবে দায়ী। আর বৈজ্ঞানিক তথ্যনির্ভর না হয়ে, পরিকল্পনাহীন কাজ করলে কী হয়, তার উদাহরণ দেখিয়েছে বর্তমান সরকার। এটাও অবহেলা। এ দুইয়ে মিলে দুঃসহ অবস্থা দেখতে হলো আমাদের।
চলতি বছরের শুরু থেকে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও সে বিষয়ে নজর দেওয়া হয়নি। মার্চ থেকে হাম ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে; কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল থেকে মে মাসজুড়ে চলে গণটিকাদান; কিন্তু সে সময়ও প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়ে যায়।
জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান এর আগে বলেছিলেন, আমার জানামতে, হামে এত মৃত্যু এ দেশে আগে হয়নি। এত সংক্রমণও হয়নি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য, এর শিকার হলো শিশুরা।
বাংলাদেশ এ বছর হাম সংক্রমণে শীর্ষে উঠে এলেও আগের বছরগুলোয় চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৫ সালে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২৪৭, ২০২৩ সালে ২৮২ ও ২০২২ সালে ৩১১ জন।
জনস্বাস্থ্যবিদ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, এবার বিভিন্ন দেশের মধ্যে হামে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে বাংলাদেশে। এত হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড এর আগে নেই। এটা নজিরবিহীন।
























