রাশিয়া ও উ. কোরিয়ার সড়ক পথের দুয়ার খুলে দিল সেতু
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 21
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে সংযুক্ত করে এই প্রথমবারের মতো একটি সড়ক সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে তুমেন নদীর ওপর দুই দেশের সীমান্ত দিয়ে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ হবে। পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি জনবল বিনিময়, পর্যটন ও বাণিজ্যের কাজে ব্যবহার করা হবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন এবং ২৩২৩ মানুষ এই সেতু পারাপার হতে পারবে।
চলতি বছরের মে মাসে বিবিসি প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির পাশাপাশি নতুন কয়েকটি সংযোগ সড়ক, সীমান্ত চেকপয়েন্ট, সহায়ক অবকাঠামো এবং পার্কিং সুবিধা নির্মাণ করা হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই বিমান ও রেল যোগাযোগ রয়েছে। তবে এতদিন কোনো স্থায়ী সড়ক সংযোগ ছিল না। বিশেষ ব্যবস্থায় রেলসেতুর ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হতো।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে সেতুটি পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে এটি যাত্রী পরিবহনের জন্যও খুলে দেওয়া হবে।
রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন সেতুটিকে ‘বন্ধুত্বের নতুন প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থে সং এটিকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে ইউক্রেনীয় অনুসন্ধানী সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডস বলেছে, সেতুটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা দিতে গোপন সামরিক সরবরাহ করিডোর প্রতিষ্ঠা করা।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন অঙ্গীকার করেছিলেন, কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হলে তারা পরস্পরকে সহায়তা করবেন।
সেই সম্পর্ক ধরে এই সেতুর সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব হতে পারে রাশিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ বৃদ্ধি। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার গবেষকদের ধারণা, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে জাহাজের মাধ্যমে ৭০০ কোটি থেকে ১ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।
এ ছাড়া আনুমানিক ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা বর্তমানে রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
























