ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামে প্রাণহানি হাজার ছুঁইছুঁই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 14

দেশে এবার হামে সংক্রমণ ও মৃত্যু নজিরবিহীন। চলতি বছর হামে প্রাণহানি হাজার ছুঁয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে হামে ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৭ জনে। নিহতদের বেশির ভাগই শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে সোমবার জানানো হয়, রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২১৬ জন রোগী এসেছে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৪৬৮ জন, রাজশাহীতে ৩০, সিলেটে ১৫৫, চট্টগ্রামে ২৪৯, বরিশালে ১৩৫, ময়মনসিংহে ৮৬, খুলনায় ৭৯ এবং রংপুরে ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০ রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩১ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৭৫৬ জন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩২। আগের বছরগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালে ২৪৭ জন, ২০২৩ সালে ২৮২ জন, ২০২২ সালে ৩১১ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিল। বছরগুলোতে মৃত্যুর রেকর্ড নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে। তবে এবার সেই হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাল প্রায় এক হাজার শিশু।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমার জানামতে, চলতি বছরের মতো বাংলাদেশের ইতিহাসে হামে আগে এত শিশুর মৃত্যু হয়নি। এত রোগীও হয়নি কোনো বছর। এ এক ভয়ানক পরিস্থিতি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই মৃত্যুর শিকার হলো শিশুরা।’

চলতি বছর বিশ্বে হামে সর্বোচ্চ সংক্রমণও হয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্বজুড়ে হাম ও রুবেলা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তর জেনেভায় নিয়মিত যে প্রাথমিক উপাত্ত জমা হয়, সেখানে সর্বোচ্চ সংক্রমণের এই চিত্র দেখা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হামে প্রাণহানি হাজার ছুঁইছুঁই

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে এবার হামে সংক্রমণ ও মৃত্যু নজিরবিহীন। চলতি বছর হামে প্রাণহানি হাজার ছুঁয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে হামে ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৭ জনে। নিহতদের বেশির ভাগই শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে সোমবার জানানো হয়, রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২১৬ জন রোগী এসেছে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৪৬৮ জন, রাজশাহীতে ৩০, সিলেটে ১৫৫, চট্টগ্রামে ২৪৯, বরিশালে ১৩৫, ময়মনসিংহে ৮৬, খুলনায় ৭৯ এবং রংপুরে ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০ রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩১ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৭৫৬ জন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩২। আগের বছরগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালে ২৪৭ জন, ২০২৩ সালে ২৮২ জন, ২০২২ সালে ৩১১ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিল। বছরগুলোতে মৃত্যুর রেকর্ড নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে। তবে এবার সেই হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাল প্রায় এক হাজার শিশু।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমার জানামতে, চলতি বছরের মতো বাংলাদেশের ইতিহাসে হামে আগে এত শিশুর মৃত্যু হয়নি। এত রোগীও হয়নি কোনো বছর। এ এক ভয়ানক পরিস্থিতি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই মৃত্যুর শিকার হলো শিশুরা।’

চলতি বছর বিশ্বে হামে সর্বোচ্চ সংক্রমণও হয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্বজুড়ে হাম ও রুবেলা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তর জেনেভায় নিয়মিত যে প্রাথমিক উপাত্ত জমা হয়, সেখানে সর্বোচ্চ সংক্রমণের এই চিত্র দেখা গেছে।