ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ, বদলে যেতে পারে সরবরাহের চিত্র

এনবি২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 9

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। কেন্দ্রটির সঙ্গে জাতীয় লোড পরিচালনা কেন্দ্রের (এনএলডিসি) সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিই ভার্নোভার মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।

ঢাকায় পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে চুক্তিতে রূপপুরের পক্ষে সই করেন প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন। জিই ভার্নোভার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেবেশ ঝা।

এনএলডিসি দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। কোথায় কত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, কোন পথে কত বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হচ্ছে এবং কোথায় কত চাহিদা রয়েছে, এসব তথ্য এখান থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রূপপুরকে এনএলডিসির সঙ্গে যুক্ত করা হলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনসংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পাওয়া যাবে।

চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুরের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তথ্য এনএলডিসির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হবে। দুই ইউনিটের মোট আটটি সঞ্চালন লাইনের তথ্য এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের দুটি উপকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও এনএলডিসিতে পাওয়া যাবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন বলেন, রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্যভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে এ চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। কেন্দ্রটির কমিশনিং প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রূপপুরের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকউজ্জামান বলেন, এনএলডিসির স্কাডা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ফলে রূপপুর ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে। এতে কেন্দ্রের উৎপাদন ও গ্রিডের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সহজ হবে।

এদিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। গত ২৮ এপ্রিল ইউনিটটিতে জ্বালানি লোডিং শেষ হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এসব প্রক্রিয়া শেষে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে যখন চাপ রয়েছে, তখন রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ, বদলে যেতে পারে সরবরাহের চিত্র

আপডেট সময় : ১১:৪২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। কেন্দ্রটির সঙ্গে জাতীয় লোড পরিচালনা কেন্দ্রের (এনএলডিসি) সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিই ভার্নোভার মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।

ঢাকায় পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে চুক্তিতে রূপপুরের পক্ষে সই করেন প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন। জিই ভার্নোভার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেবেশ ঝা।

এনএলডিসি দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। কোথায় কত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, কোন পথে কত বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হচ্ছে এবং কোথায় কত চাহিদা রয়েছে, এসব তথ্য এখান থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রূপপুরকে এনএলডিসির সঙ্গে যুক্ত করা হলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনসংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পাওয়া যাবে।

চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুরের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তথ্য এনএলডিসির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হবে। দুই ইউনিটের মোট আটটি সঞ্চালন লাইনের তথ্য এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের দুটি উপকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও এনএলডিসিতে পাওয়া যাবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন বলেন, রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্যভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে এ চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। কেন্দ্রটির কমিশনিং প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রূপপুরের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকউজ্জামান বলেন, এনএলডিসির স্কাডা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ফলে রূপপুর ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে। এতে কেন্দ্রের উৎপাদন ও গ্রিডের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সহজ হবে।

এদিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। গত ২৮ এপ্রিল ইউনিটটিতে জ্বালানি লোডিং শেষ হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এসব প্রক্রিয়া শেষে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে যখন চাপ রয়েছে, তখন রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।