ডিসেম্বর ঘিরে আওয়ামী লীগের নতুন কৌশল
- আপডেট সময় : ০২:৪৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / 23
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড এগোচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে দাবি করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ আত্মগোপনে কিংবা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি অংশও আত্মগোপনে থেকে সাংগঠনিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি গোয়েন্দা সূত্রের।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সংকেতায়িত যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দেশে থাকা নেতাকর্মীরা বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। পাশাপাশি ডিসেম্বরকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়েও প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে একটি ভিডিওতে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানার একটি পুলিশ ফাঁড়ির পুরো টিম প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার করা দলে ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ২৭ জন সদস্য ছিলেন।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের কিছু নেতাকর্মী পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টাও চলছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাজধানীর কয়েকটি আবাসিক এলাকাকে আত্মগোপনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ রাইড শেয়ারিং, অটোরিকশা চালানো, ব্যবসা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির মতো পেশা বেছে নিয়েছেন বলেও জানা গেছে। পাশাপাশি কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দের ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব ঘটনাকে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, নাশকতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো চেষ্টা মোকাবিলায় অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের একটি অংশ অর্থ ব্যয় করে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে পারে। তবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তারপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। জনগণের সহযোগিতায় যেকোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা সম্ভব।
অন্যদিকে সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার আলোচনা মূলত নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কৌশল হতে পারে।
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসা সহজ নয়। বিগত সরকারের কর্মকাণ্ডের দায় এবং মানুষের ক্ষোভের মুখে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা ও সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
























